ঝিনাইদহে হঠাৎ করেই দেখা দিয়েছে গরুর ক্ষুরা রোগ। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে অর্ধশত গরু। আক্রান্ত হয়েছে জেলার ৬টি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের গবাদিপশু। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন খামারি ও কৃষকরা। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ বলছে, ক্ষুরা রোগ প্রতিরোধে দেয়া হচ্ছে ভ্যাকসিনসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বিষয়খালী গ্রামের পলাশ ঘোষ। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে চারটি গরু কিনে খামার গড়ে তোলেন। হঠাৎ করেই তার খামারের তিনটি গরু অসুস্থ হয়ে পড়ে। পায়ের ক্ষুরায় ও মুখে দেখা দেয় ঘা। তাৎক্ষণিক স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবস্থা নিলেও বাঁচাতে পারেননি প্রায় ৫ লাখ টাকা দামের তিনটি গরু। তারই ছোট ভাই পল্লব ঘোষের গোয়ালটিও এখন শূন্য। একই বাড়িতে দুই ভাইয়ে ৭টি গরু ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।
খামারি পলাশ ঘোষ বলেন, আমার দুটি গুরু মারা যাওয়ায় আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি।
এ রোগে সংক্রমিত হয়ে গত ১ মাসে মারা গেছে সদর উপজেলার বিষয়খালী, কেশবপুর, শৈলকুপা উপজেলার কবিরপুর, মহেশপুর উপজেলার নেপাসহ বিভিন্ন গ্রামের অর্ধশত গরু। আক্রান্ত হয়েছে কয়েক হাজার। ক্ষুরা রোগ দেখা দেয়ায় আতঙ্কিত খামারি ও কৃষকরা। আর আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দিশেহারা। সরকারিভাবে চিকিৎসা দিলেও কাজে আসছে না বলে অভিযোগ তাদের।
খামারি ও এলাকাবাসী জানান, সারাজীবনের সঞ্চয়ের টাকায় কেনা গরুগুলো এভাবে মারা যাওয়ায় আমরা নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের সাহায্য সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তারা।
ক্ষুরা রোগ প্রতিরোধে আক্রান্ত এলাকায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এই রোগ প্রতিরোধে খামারি ও কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলে দাবি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আনন্দ কুমার অধিকারী বলেন, যে এলাকায় সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে, সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের টিম যাচ্ছে। ক্যাম্প করে সে এলাকায় আক্রান্ত বা অসুস্থ গরুর চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্য মতে, জেলায় ছোট বড় ১২ হাজার গরুর খামার রয়েছে। আর গরুর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৫ লাখ।