বাংলাদেশের সাবেক সফল অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। দেশের হয়ে বাইশগজে প্রতিনিধিত্ব ছেড়েছেন বহু আগেই। তবে এখনো ঠিকই আগলে রেখেছেন তার একসময়ের সতীর্থ ও অনুজদের।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সুপার টুয়েলভের ম্যাচে হারের পর সবার আঙুল যখন মাহমুদউল্লাহদের দিকে উঠছিল, সে সময়ও তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মাশরাফী। ব্যতিক্রম হলো না ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের পরেও।
তবে বুধবার (২৭ অক্টোবর) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া পোস্টে মাশরাফী কথা বলেছেন টাইগারদের সমালোচনার ব্যাপারে। তার মতে, এ দেশের মানুষ দলকে ভালোবাসে বলেই এতো কথা বলে। আর তাই বিষয়গুলোকে সহজভাবে নিয়ে ভুলগুলো শুধরানোর পরামর্শই দিয়েছেন টাইগারদের সফলতম এই অধিনায়ক।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে মাশরাফী লিখেছেন, ‘সমালোচনা জীবনের একটা অংশ। এটা সহ্য করাও একটা আর্ট। যে যতো সমালোচনা নিতে পারে সে ততো ভালো থাকে। ঠিক এই মুহূর্তে তোমাদের সমালোচনা সবাই করবে এমনকি আমিও, তাতে তোমাদের কিছু যায়-আসার কথা নয়।’
‘শুধু তোমাদের চিন্তা করা উচিত, তোমরা কী করতে চেয়েছিলে আর তা কেন করতে পারোনি। পরের ম্যাচে যেন সেরাটা দিতে পারো সেই চিন্তা করা শুরু করো। কারণ পরের ম্যাচটাও তোমরা বাংলাদেশের জন্যই খেলবে আর দেশের সবাই আবার নতুন কোনো আশা নিয়ে খেলা দেখতে বসবে।’
‘মাঝখান দিয়ে হয়তো কেউ গঠনমূলক সমালোচনা অথবা আরও বেশি নেতিবাচক কথা বলবে। তোমাদের ভালোবাসে বলেই এতো কথা বলে। নেক্সট ম্যাচেই সেরাটা দিয়ে জিতে আসলে দেখবে সবাই আনন্দে পেছনের জিনিস ভুলে যাবে। একমাত্র ইতিবাচক মানসিকতাই সেরাটা বের করে আনতে পারবে আমার বিশ্বাস।’
‘মাঠে যা কিছুই ঘটুক না কেন, তোমাদের পাশেই আছি। মন প্রাণ দিয়েই থাকবো। সবাই বিশ্বাস করে তোমরাই আনন্দের উপলক্ষ। বাজে দিনকে ভুলে যাওয়াই উত্তম তবে বাজে দিন যে শিক্ষা দিয়ে যাবে তা মনে রাখা আরও উত্তম। গুড লাক বাংলাদেশ ক্রিকেট। আল্লাহ ভরসা।’
এর আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের হারের দায় কেবল মাহমুদউল্লাহ-লিটনের নয়, হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো আর টিম ম্যানেজমেন্টও এই ব্যর্থতার দায় এড়াতে পারেন না বলে ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে সোমবার (২৫ অক্টোবর) এমন মন্তব্য করেন সাবেক টাইগার অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। একই সঙ্গে দলের ফিল্ডিং কোচের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’।
মাশরাফী সেসময় লিখেছেন, দশম ওভারে পানি পানের বিরতিতে কোচ কি শুধু কুশল বিনিময় করতেই মাঠে ঢুকেছিলেন! গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নিতে কোচের পরামর্শ কার্যকর প্রমাণিত হয়। ডমিঙ্গো কি আদৌ কোনো পরামর্শ দিয়েছেন রিয়াদকে? যদি দিয়েই থাকেন বা রিয়াদের পরিকল্পনা জানতে চেয়ে থাকেন; তবে তো ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ক্রিকেটারদের না পাঠিয়ে তিনি নিজেই বিষয়টা ব্যাখ্যা করতে পারতেন। মাশরাফী সমালোচনা করে এটাও লিখেছেন, যদি কোচের কোনো ইমপ্যাক্ট নাই থাকে তবে টুয়েলভ ম্যানদের হাতে পানি পাঠিয়ে দিলেই হতো।