মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে রবিবার দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে নাজমুল ও নুরুলের ব্যাটে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী করেছিল ৫ উইকেটে ১৪৫ রান। পাঁচ উইকেট হাতে রেখেই এই রান টপকে গেছে জেমকন খুলনা। এই জয়ে ৬ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে মাহমুদউল্লাহ-সাকিব-ইমরুলের দল।
১৪৬ রানের লক্ষ্যে খুলনার ওপেনিং জুটি দারুণ সূচনা এনে দেয় খুলনাকে। দলীয় ৫৬ রানে আরাফাত সানির ভাঙেন এই জুটি। তার শিকার হয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরেন জাকির হাসান। ফেরার আগে খেলেন ১৯ বলে ২০ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় উইকেটে ইমরুল-জহিরুল মিলেও চেষ্টা অব্যহত রাখেন। জহিরুল ৪০ বলে ৪৩ রানে আউট হওয়ার হন। সঙ্গীকে হারিয়ে ইমরুলও ফিরে যান ২৭ রানে।
আগের ম্যাচের ধারাবাহিকতায় আজও ব্যাট হাতে ব্যর্থ সাকিব আল হাসান। পাঁচ বল খেলে ৪ রান করে ফিরেছেন। তার আউটের পর চাপে পড়ে খুলনা। সেই চাপ সামলে আরিফুলকে নিয়ে ম্যাচ জিতিয়েই ফিরেছেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২১ রান। সাইফউদ্দিনের ১৯তম ওভারে ১৫ রান তুলে সেই চাপটা সরিয়ে দেয় মাহমুদউল্লাহ-আরিফুল জুটি। ওই ওভারেই ম্যাচ চলে যায় খুলনার নিয়ন্ত্রণে। শেষ ওভারে তিন বল বাকি থাকতে ৫ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় খুলনা।
৩১ রানে ২ উইকেট নিয়ে রাজশাহীর সেরা বোলার মুকিদুল ইসলাম। এছাড়া সাইফউদ্দিন, আরাফাত সানি ও ফরহাদ রেজা একটি করে উইকেট নেন।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে যাওয়া রাজশাহী ৫ উইকেটে করে ১৪৫ রান। নাজমুলের ৫৫ রানের পর নুরুলের ৩৭ রানের ইনিংস খুলনাকে নিয়ে যায় এই চ্যালেঞ্জিং স্কোরে। ইনিংসের শুরুতেই উইকেট পায় খুলনা। দ্বিতীয় ওভারে শুভাগত হোমের ঘূর্ণিতে পরাস্ত হয়ে উইকেট দিয়ে আসেন রাজশাহীর ওপেনার আনিসুল হক। নিয়মিত উইকেট পড়লেও একপ্রান্ত আগলে রাখেন নাজমুল। খেলেন ৫৫ রানের ইনিংস। ৩৮ বলে ৬ চার ও ২ ছক্কায় তার ইনিংসটি সাজিয়েছেন নাজমুল। একটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নেমেছিল রাজশাহী। গত কয়েক ম্যাচ নিয়মিত খেলা মোহাম্মদ আশরাফুলকে বাদ দিয়ে সাইফউদ্দিনকে নেওয়া হয় একাদশে। তবে আশরাফুলের জায়গায় ব্যাটিং করা মেহেদী হাসান ব্যর্থ। চার নম্বরে নেমে এই ব্যাটসম্যান করেছেন ৯ রান। শেষ দিকে নুরুল হাসানের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে বলার মতো রান পায় রাজশাহী। ১৯তম ওভারে আল আমিনের বলে ঝড় তোলেন নুরুল । ২ চার ও ২ ছক্কায় নুরুল ওই ওভারে নেন ২২ রান। নুরুল ২১ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৩৭ রান করে অপরাজিত থাকেন। জাকির আলী ১৯ বল খেলে অপরাজিত থাকেন ১৫ রানে।
খুলনার বোলারদের মধ্যে ৩ ওভারে ২৫ রান দিয়ে দলের সেরা বোলার শুভাগত হোম। শহিদুল, আল আমিন ও মাহমুদউল্লাহ একটি করে উইকেট নিয়েছেন। সাকিব আল হাসান ৪ ওভার বোলিং করে ১৭ রান দিয়ে উইকেটশূন্য।