রাজধানীতে বাড়ছে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যুর ঘটনা। গত এক মাসে মারা গেছে অন্তত ২০ জন। রেললাইনের ওপর অবৈধ বাজার, সিগন্যাল না মানার প্রবণতাসহ অসচেতনতাকে দায়ী করছেন রেল পুলিশ। মৃত্যু কমাতে রেললাইনে বেড়া দেওয়াসহ আধুনিক লেভেল ক্রসিংয়ের ব্যবস্থা করার কথা জানিয়েছে রেলওয়ে।
সেকেন্ডের ব্যবধানে তীব্র গতিতে ছুটে চলা ট্রেন কেড়ে নিতে পারে জীবন। এরপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেন রেললাইন পার হচ্ছে মানুষ?
রাজধানীর কারওয়ান বাজার রেললাইন। ৫ মিনিট আগেই ট্রেন আসার সিগন্যাল দিয়েছে কারওয়ান বাজার লেভেল ক্রসিং। ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে পারাপারের রাস্তা। তবুও যেন থামতে চায় না কেউই। ভাঙছে সিগন্যাল। কমলাপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত মাত্র ২২ কিলোমিটার রেলপথে এমন ক্রসিং আছে ২৭টি। যার প্রতিটিরই একই অবস্থা।
শুধু কি তাই। রেললাইনের ওপরেই গড়ে উঠেছে অবৈধ মাছের বাজার। রাজধানীতে এমন বাজার রয়েছে ১০-১২টি। ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে মুখর এই বাজারে ট্রেন আসলেই শুরু হয় ছুটাছুটি। সময়ের একটু হেরফেরে মাঝেমধ্যেই ঘটছে মৃত্যু।
সম্প্রতি উদ্বেগজনকহারে বেড়েছে মৃত্যু। অহেতুক রেললাইনের ওপর মানুষের ঘোরাফেরা, কথা বলতে বলতে পারাপার, সিগন্যাল অমান্য করে গাড়ি চালানোসহ অসচেতনতাকে দায়ী করছেন রেল পুলিশ।
ঢাকা রেলওয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ রকিব-উল-হাসান বলেন, রেললাইনের পাশে রাস্তা থাকা সত্ত্বেও অনেকে রেললাইন দিয়ে হাঁটছে। কেউ কেউ আবার কানে হেডফোন লাগিয়ে হাঁটে, রেললাইনে সেলফি তুলে। এসবের কারণেই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে থাকে।
সারাদেশে ১ হাজার ৪০০ অবৈধ লেভেল ক্রসিং থাকলেও, রাজধানীর ক্রসিংগুলো সবই বৈধ। প্রতিটিতে গেটম্যানও আছে এমন তথ্যের দাবি করে রেল কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু অসচেতনতার কারণেই বাড়ছে দুর্ঘটনা, তবে আধুনিক ক্রসিং ব্যবস্থাপনার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
কমলাপুর রেলস্টেশন ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাসুদ সারোওয়ার বলেন, রেললাইনগুলোকে এবং লেভেল ক্রসিংগুলোকে প্রটেকশনের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এগুলো আস্তে আস্তে সম্পূর্ণ ব্যারিয়ারের আওতায় চলে আসবে।
সারাদেশে ২ হাজার ৯০০ কিমি রেলপথে লেভেল ক্রসিং আছে আড়াই হাজারেরও বেশি।