ডাণ্ডাবেড়ি ও হাতকড়া লাগানো অবস্থায় গাজিপুরের কালিয়াকৈরে বোয়ালি ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি আলি আজমকে মায়ের জানাজায় উপস্থিত নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল। মানবাধিকার সংস্থা গুলোও এ নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেছিল। গত ২১ ডিসেম্বর থেকে ১৬ জানুয়ারী। মাত্র ২৫ দিনের ব্যবধানে আরো এক ছাত্রদল নেতাকে ডাণ্ডাবেড়ি ও হাতকড়া লাগানো অবস্থায় প্যারোলে মুক্তি দিয়ে মায়ের জানাজায় হাজির করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। মায়ের মৃত্যুর পর প্যারোলে মুক্তি আবেদন জানায় ছাত্রদল নেতা সেলিম রেজার পরিবার। গত রোববার (১৬ ডিসেম্বর) রাতে তাঁকে কাশিমপুর কারাগার থেকে ৭ ঘন্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেয় কারা কর্তৃপক্ষ। মুক্তির পর পুলিশ পাহারায় হাতকড়া ও ডাণ্ডাবেড়ি লাগানো অবস্থা কাশিমপুর থেকে তাঁকে শরিয়তপুরের সুজন দোয়াল এলাকায় গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
গত ডিসেম্বরের ২১ তারিখে গাজিপুরের কালিয়াকৈর থানার বোয়ালি ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আলী আজমকে ডাণ্ডাবেড়ি ও হাতকড়া পড়ানো অবস্থায় মায়ের জানাজায় হাজির করা হয়েছিল। রাত ১১টায় কাশিমপুর থেকে রওয়ানা দিয়ে রাত ৩টায় গ্রামে পৌছায় সেলিম রেজাকে নিয়ে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। রাতেই হাতকড়া এবং ডাণ্ডাবেড়ি লাগানো অবস্থায় মায়ের জানাজায় সামনের কাতারে দাঁড়ান ছাত্রদলের এই নেতা।
সেলিম রেজার মা নাসিমা পুত্রশোকে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। এই অসুস্থতায় রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ইন্তেকাল করেন তিনি। স্বজনরা জানান, মায়ের জানাজা নিজে পড়াতে আইনজীবীর মাধ্যমে রোববার সকালে জেলা প্রশাসক বরাবর প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেন সেলিম রেজার পরিবার। পরে বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত তিনি প্যারোল পান। তবে তার মুক্তি নিয়ে নানা টালবাহানা করেন কারা কর্তৃপক্ষ। দিনভর নাটকীয়তা শেষে বিকাল ৪টার পরিবর্তে রাত পৌনে ১১টার দিকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয় তাঁকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্যারোলে মুক্তি পর রাত ৩টার দিকে শরীয়তপুরের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছান সেলিম রেজা। সোয়া ৩টায় নিজ বাড়ির পাশে মায়ের জানাজাস্থলে উপস্থিত হন তিনি। জানাজা শেষে ৪টার দিকে আবারো কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। হাতকড়া এবং ডাণ্ডাবেড়ি লাগানো অবস্থায়ই দাঁড়িয়েছিলেন মায়ের জানাজায়।
জানাজায় উপস্থিত ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আরিফ গণমাধ্যমকে জানান, জানাজার সময়ও সেলিম রেজার হাতকড়া ও ডাণ্ডাবেড়ি খুলে দেওয়া হয়নি। এতে জানাজায় উপস্থিত লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে এতে কর্ণপাত করেনি প্রশাসন।
উল্লেখ্য, গত ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় কার্যালয় তছনছ করার পাশাপাশি বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতাকে আটক করে নিয়ে যায়। নেতাদের সাথে উপস্থিত অন্যান্য কর্মী এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদেরও পাইকারি হারে আটক করা হয় সেদিন। অন্যান্য নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজাকেও আটক করা হয় কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে। পরবর্তীতে পুলিশের দায়ের করা মামলায় সেলিম রেজা ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক ছিলেন।