চট্টগ্রামে সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণে নিহতদের পরিবারকে আড়াই লাখ টাকা করে অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান। রবিবার (৫ জুন) বিকালে হাসপাতালে দগ্ধ ও আহতদের পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যম কর্মীদের তিনি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ৫০ হাজার ও আহতদের ২৫ হাজার করে টাকা দেওয়া হবে। এছাড়া শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে দুই লাখ টাকা করে অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে।
এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান জানান, দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৫ জন নিহত ও ১৬৩ জন আহত হয়েছেন।
তবে সিভিল সার্জন মো. ইলিয়াস চৌধুরী গণমাধ্যম কর্মীদের জানিয়েছেন দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৯ জন নিহত হয়েছেন।
এর আগে, নিহতদের মধ্যে ১৭ জনের লাশ শনাক্তের তথ্য জানিয়েছেন পিবিআই পুলিশ পরিদর্শক মো. মনির হোসেন।
গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তির সহায়তায় লাশগুলোর পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। আঙুলের ছাপের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে ১৭ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। যাদের আঙুলের ছাপ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না তাদের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা হবে।’
নিহতদের মধ্যে শনাক্ত হওয়া ১৭ জনের মধ্যে ১৫ জনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলেন, মোমিনুল হক, মহিউদ্দিন, হাবিবুর রহমান, রবিউল আলম, তোফায়েল ইসলাম, ফারুক জমাদ্দার, আফজাল হোসেন, মো. সুমন, মো. ইব্রাহিম, হারুন উর রশিদ, মো. নয়ন, শাহাদাত হোসেন, শাকিল তরফদার, শাহাদাত উল্লাহ জমাদার ও ফায়ার সার্ভিস কর্মী মনিরুজ্জামান।
এদিকে ঘটনার তদন্তে জেলা প্রশাসন এবং ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে দুটি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মো. আলমগীর জানান, কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে হতাহতদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এর আগে, শনিবার (৪ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টায় বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পুরো ডিপো এলাকা। পরে ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ডিপোতে আমদানি-রফতানির বিভিন্ন মালামালবাহী কনটেইনার ছিল। ডিপোর কনটেইনারে রাসায়নিক ছিল, বিকট শব্দে সেগুলোতেও বিস্ফোরণ ঘটে। দ্রুত চারদিকে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে। আহতদের উদ্ধার করে চমেক হাসপাতাল ও বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে আগুন নেভাতে যাওয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিটের সদস্যরা। পরবর্তী সময়ে অন্য কনটেইনারের বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন তারা। এদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৯ জন মারা গেছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে সেনা সদস্যরা যোগ দিয়েছেন।