গাউছিয়া মার্কেট ব্যবসায়ীদের ওপর হামলা চালিয়েছে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ। গুরুতর আহত ৫ জনকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়।
গতকাল বুধবার (২৩ জানুয়ারি) রাত ১০ টায় মিরপুর রোড সড়কে হঠাৎ জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে রড, ছেনি দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালানো হয়। এতে ২০ থেকে ২২ টি দোকান হামলার কবলে পড়ে লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন ব্যবসায়ীরা। হামলাকারীদের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে শনাক্তের কথা জানিয়েছে পুলিশ। হামলার পর ঘণ্টাখানেক মিরপুর রোড সড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে।
নিউমার্কেটসহ আশপাশের একাধিক ব্যাবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দোকানের কর্মচারীদের সঙ্গে ঢাকা কলেজের আবাসিক শিক্ষার্থীদের বাগ-বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায় তারা ব্যবসায়িদের হামলা চালায়, তাতে ঘটনাস্থলেই পাঁচজন গুরুতর আহত হয়। তাদের তাৎক্ষণিক ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। হামলাকারীরা অধিকাংশই ব্যবসায়িদের কাছে পরিচিত মুখ বলে অনেকেই জানান। রাত হলেই শিক্ষার্থীরা ব্যবসায়ীদের কাছে আসত।
কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ব্যবসায়িদের ওপর হামলাকারীরা শরীয়তপুর ও মাদারীপুর ব্লকের ছাত্রলীগের সদস্য। তারা ওই ব্লকের ছাত্রলীগ নেতা মাইনুল হক সবুজ, মৃদুল ও কাওসারের অনুসারী বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, ছাত্রলীগের কর্মীদের হামলায় কর্মচারীর মাথা ফেটে যায়। আহত ৫ জন দোকান কর্মচারীকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের হামলায় দোকান মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদকের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। উপস্থিত ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, হামলাকারীরা ছাত্রলীগের পরিচয় দিয়ে মার্কেটে এসে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে, এরপর হামলা চালায়।
তাদের আচরণ দেখে সন্ত্রাসী মনে হয়েছে, ছাত্র মনে হয়নি। তাদের অধিকাংশই সশস্ত্র ছিল।
ড্রিম ফেয়ার কসমেটিকস দোকানের মালিক কামাল মিয়া (৪৫) জানায়, ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের একটি গ্রুপ আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাতে আমার দোকানের কর্মচারী আকাশ গুরুতর আহত হলে পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।
তিনি আরও বলেন,আমার দোকানে প্রায় আড়াই লাখ টাকার মালামাল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
নিউ শরমা কিং ফাস্ট ফুডের ম্যানেজার বলেন,ঢাকা কলেজের ছাত্ররা জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে হঠাৎ অতর্কিত হামলা চালায় । এতে আমার দোকানের আমিসহ ৪ জন মো. শরিফ (২২) শিপলু (৩৫), শিহাব (২৩) আহত হয়। এক জনের অবস্থা গুরুতর বিধায় ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।
খাজা মইনুদ্দিন ইমেটেশন জুয়েলারির মালিক জানায়, কোনো কারণ ছাড়াই আমাদের দোকানে ছয়জন রড, ছেনি দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়।
সরেজমিনে দেখা যায় গাউছিয়া মার্কেটের প্রায় ২০ থেকে ২২ টি দোকানে হামলা হয়েছে।
গাউছিয়া মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বাবু জানান, ইতোমধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সঙ্গে আমরা বসেছি। তারা আমাদের ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যে বা যারা এ এটার সঙ্গে জড়িত তাদরে আইনের আওতায় আনা হবে। ব্যবসায়ীদের আইন হাতে না তুলে নেওয়ার জন্য আমরা আহ্বান জানিয়েছি।
হামলার ঘটনা অস্বীকার করে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক শুভ্র দেব হালদার বাপ্পি জানায়, এক দোকানি শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত দেয়। এর পর শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানায়। হামলা এবং লুট করার ঘটনা মিথ্যা।
রমনা বিভাগের ডিসি সাজ্জাদুর রহমান বলেন,ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কোনো সন্ত্রাসীর কাছে পরাজয় বরণ করে না। স্পষ্ট করে বলতে চাই, মানুষের জানমাল রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। যারা হামলা করে আইন নিজের হাতে তুলে নেয় তারা অতীতে কেউ রেহাই পায়নি, এবারও পাবে না। যারাই হামলা চালিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের ক্ষয়ক্ষতি দেখেছি। সিসি ক্যামেরা পর্যালোচনা করা হবে। যদি কোনো ছাত্র সংগঠন বা কোনো নেতৃত্বর কথা বলে যদি এই বিশঙ্খলা করে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়টি নিয়ে আমরা ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গে আরও বসব।