ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফরকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ব্যাপক তাণ্ডবের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
বিজিবি ছাড়াও শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ ও এবিপিএন সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে পুরো জেলা শহর জুড়ে।
এর আগে, বঙ্গন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফরকে ঘিরে গতকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলা চালায় আন্দোলনকারীরা। এ সময় তারা সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে টায়ারে আগুন লাগিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। পরে বিক্ষুব্ধরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রেল স্টেশনে আগুন ধরিয়ে দেয়। রেল স্টেশনের সিগন্যাল, মাস্টার রুম, কন্ট্রোল রুমসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের কক্ষ ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং সমস্ত মালামাল একত্রিত করে আগুন ধরিয়ে দেয়। রেল লাইনের স্লিপার তুলে ফেলে বিক্ষুব্ধরা। সিগন্যাল বক্স ভেঙ্গে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এছাড়াও পুলিশ সুপারের কার্যালয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, পৌর মুক্তমঞ্চ এবং পৌর মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এ ঘটনায় পুলিশসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়। সদর হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় আশিক নামে এক যুবকের মৃত্যুও হয়। সে শহরের কাউতলীর দাতিয়ারা গ্রামের সাগর মিয়ার ছেলে। পরে বিক্ষুব্ধরা মরদেহ নিয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়কে বিক্ষোভ করে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম জানান, হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি। তবে ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ১০ প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।