দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো একজন রাজনীতিবিদের জীবনে সবচেয়ে বড় পাওয়া বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এজন্য তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের দুঃখী মানুষের পাশে থাকার আহবান জানান। কনফারেন্সে একযোগে দেশের ৪৯২ উপজেলায় ছিন্নমূল মানুষকে ভূমি ও গৃহদান অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। কার্যক্রমের অংশ হিসাবে তৃতীয় ধাপে রাঙামাটিতে ২০৬টি পরিবারের মাঝে ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়েছে।
ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা বলেন, আমরা চাই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। জাতির পিতার স্বপ্নের বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে উঠবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সবসময় বলতেন, ‘আমার দেশের প্রতিটি মানুষ খাদ্য পাবে, আশ্রয় পাবে, উন্নত জীবনের অধিকারী হবে- এই হচ্ছে আমার স্বপ্ন।’ জাতির পিতা স্বাধীনতার পর দেশের ভূমিহীন-গৃহহীন, ছিন্নমূল মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করেন। তিনি সংবিধানের ১৫(ক) অনুচ্ছেদে দেশের প্রতিটি নাগরিকের বাসস্থান পাওয়ার অধিকারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমিও তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে কাজ করে যাচ্ছি। কুষ্ঠরোগী, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, চা শ্রমিক, ছিন্নমূলসহ সমাজের প্রতিটি অবহেলিত ভূমিহীন ও গৃহহীনদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করছি। এটা জাতির পিতার আদর্শের আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মীরও দায়িত্ব।
শেখ হাসিনা বলেন, সারাদেশে আট লাখের ওপর মানুষ পেয়েছি, যারা ছিন্নমূল। আমরা প্রতিটি মানুষকে ঘরবাড়ি করে দেবো। শুধু খাসজমি নয়, জমি কিনেও ঘর করে দিচ্ছি বিনামূল্যে। জানি না পৃথিবীর কেউ এ উদ্যোগ নিয়েছে কি না। আমি জাতির পিতার আদর্শের কর্মী, শুধু তার কন্যা নয়। আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের জন্য ঘরবাড়ি নিশ্চিত করবো।
তিনি বলেন, সবচেয়ে ভালো লাগে ঘর পাওয়া মানুষের মুখের হাসি। জাতির পিতা তো দুঃখী মানুষের মুখেই হাসি ফোটাতে চেয়েছেন। এ বাংলাদেশ যেন বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে, সেই লক্ষ্যে কাজ করছি। উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। যে জাতি রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করে, সে জাতি পিছিয়ে থাকতে পারে না।
ভার্চুয়ালী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাঙামাটির কাউখালী প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপংকর তালুকদার এমপি, রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু চৌধুরী, রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়, কাউখালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শামসুদ্দৌহা চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম, কাউখালী নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুন আরা সুলতানাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তৃতীয় পর্যায়ে রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় ৯০টি, লংগদু উপজেলায় ১০টি, নানিয়ারচর উপজেলায় ১১টি, বরকল উপজেলায় ৫৫টি এবং কাউখালী উপজেলায় ৪০টিসহ সর্বমোট ২০৬টি গৃহের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে উপকারভোগীদের নিকট চাবি হস্তান্তর করা হয়েছে।