বেকারি পণ্যের দাম বৃদ্ধির দাবিতে সারা দেশে আটহাজার বেকারি প্রতিষ্ঠান কোনো ঘোষণা ছাড়াই ধর্মঘট পালন করছে। ফলে বেকারি পণ্যের সংকট তৈরি হয়েছে।
তবে, সুনির্দিষ্ট কোনো দাবির কথা জানাতে পারেনি বেকারি মালিক সমিতির নেতারা। তারা একদিনের ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নিলেও দেশের কোথাও কোথাও মালিকেরা এটি দুদিন-তিনদিন বা তারও বেশি সময় ধরে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খবর বিবিসি বাংলা।
সংবাদমাধ্যমটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (৩১ মে) নতুন সরবরাহ না থাকায় দোকানে বেকারি পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না। যে দুই-একটা দোকানে বিক্রি হচ্ছে সেগুলোও আগেরদিনের বা তারও আগে তৈরি।
রাজধানীর মিরপুরের একটি দোকানের মালিক বিবিসিকে জানিয়েছে, গতকাল (সোমবার) তাদের সরবরাহকারী বেকারি থেকে জানানো হয়েছে তারা সাতদিন কোনো বেকারি পণ্য সরবরাহ করবে না। কিন্তু আজকে (মঙ্গলবার) সরবরাহ না হলে বুধবার থেকে খুচরা দোকানে টান পড়বে।
এ বিষয়ে বেকারি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দিন বিবিসিকে জানান, সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা এখন আর কুলিয়ে উঠতে পারছেন না। বেকারিতে যেসব কাঁচামাল লাগে তেল, ডালডা ছাড়াও যেমন ময়দা, চিনি সবকিছুর দাম বাড়তি। ফলে, তাদেরও এখন পণ্যের দাম বাড়াতে হবে।
কাছাকাছি সময়ে অনেক বেকারি বন্ধ হয়ে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, তেলের দাম যখন লিটারে ষাট টাকা ছিল তখন আমরা যে দামে পণ্য বিক্রি করেছি, এখন লিটার দুইশ টাকার মতো, এখনও একই দামে বিক্রি করছি। ময়দার জন্য যে গম দরকার হয় ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ভারত গম রপ্তানি বন্ধ করার কারণে তার সরবরাহ কমে গেছে। মিল মালিকেরা আমাদের জানিয়েছে, এক বস্তা গম আগের চেয়ে অনেক বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই তারাও ময়দার দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এসব পরিস্থিতি সবাইকে জানাতে তারা ধর্মঘট ডেকেছেন বলে জানান তিনি।
দেশে অনেক পরিবার সকালের নাস্তায় পাউরুটি খেয়ে থাকেন। এছাড়া স্বল্প আয়ের মানুষ বা বস্তি এলাকার মানুষেরাও বেকারি পণ্যে নির্ভর করে থাকেন।
এমন অনেকে বিবিসিকে বলছেন, বেকারি ধর্মঘটের প্রভাব তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় পড়বে। সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।