তৃতীয় দিনের শেষ উইকেটটাতেই মিলেছে অনেক প্রশ্নের জবাব। ক্যাম্পবেলের অবাক করা আউটে। উইন্ডিজদের দ্বিতীয় ইনিংসে ১৭তম ওভারের চতুর্থ বল, ক্যাম্পবেল কিছু বুঝে উঠার আগেই দেখেন স্ট্যাম্পের উপর থেকে বেল পড়ে গেছে। বেশ অস্বস্তি নিয়েই ব্যাটিং করছিলেন তাইজুলের ওই ওভারে। সুইংয়ের সঙ্গে বাউন্স সামলাতে হিমশিম খাওয়া ক্যাম্পবেলকে বিদায় করেই দিনের শেষভাগটায় রাঙ্গিয়ে নেয় বাংলাদেশ। রাঙ্গিয়ে নেন তাইজুল।
আর এতেই স্পষ্ট হয়ে উঠে চতুর্থ দিন থেকে স্পিনাররাই হবেন এই ম্যাচে গতিপথ বদলানোর কাড়িগর। হউক সেটা বাংলাদেশ কিংবা উইন্ডিজ বোলার। অবশ্য তৃতীয় দিন শেষে উইন্ডিজদের লিডটাও মন্দনা। ১৫৪ রানের লিড। দ্বিতীয় ইনিংসে তাদের সংগ্রহ তিন উইকেট ৪১ রান। চতুর্থ ইনিংস ব্যাট করতে হবে বাংলাদেশকে। তাই স্বাগতিক বোলারদের সামনে এখন চ্যালেঞ্জ থাকবে যত দ্রুত অলআউট করা যাবে উইন্ডিজদের ততই ম্যাচে বাঁচানোর সম্ভাবনা জাগবে বাংলাদেশের জন্য।
ম্যাচের শেষ সেশনটা ছিল বেশ নাটকীয়। ৭ উইকেট পড়েছে এই সেশনে। প্রথম চারটি যেখানে বাংলাদেশকে হতাশায় ভাসিয়েছে, পরের তিনটি দেখিয়েছে চতুর্থ দিন সকালকে ঘিরে নতুনের আশা।মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম আর নাঈম হাসান—তিন স্পিনারই একটি করে উইকেট নিয়েছেন।
দ্বিতীয় দিনে ঠিক যেখানে শেষ করেছিল বাংলাদেশ ঠিক সেখান থেকেই শুরু। মুশফিকুর রহিম এবং মোহাম্মদ মিঠুন দেখাচ্ছিলেন আশা, সেই আশা তৃতীয় দিনের শুরুতেই নিরাশায় রুপ নিয়েছে। মুশফিক করেছেন আত্মহত্যা, উইকেট বিলিয়ে দিয়ে ফিরেছেন মিঠুন।
দ্বিতীয় দিনের শেষে সংবাদমাধ্যমকে তামিম ইকবাল বলেছিলেন, একটা একশো রানের জুটি যদি হয় তবে ঘুরে যেতে পারে ম্যাচ। ম্যাচ ঘুরেছে কিনা বলা কঠিন তবে মেহেদী মিরাজ-লিটনের ব্যাটে যে ফেরার আভাস দিচ্ছে বাংলাদেশ সেটা সত্য।
বাংলাদেশ তাদের ষষ্ঠ উইকেট হারিয়েছিল ১৫৫ রানে। এরপরই মিরাজ-লিটন দৃঢ়তা, দুজন মিলে চা বিরতির আগ পর্যন্ত যোগ করেন ১১৭ রান। তৃতীয় সেশন শুরু না হতেই সব ওলটপালট ৮ বলের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারিয়ে মুহূর্তেই সব আশা শেষ।
লিটন ফিরলেন ৭১ রানে, আরো একবার হাফ সেঞ্চুরিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দিতে ব্যর্থ। তাঁর দেখানো পথে ফিরেন মিরাজও। এ দুজনের মাঝে কিছু সময় কাটান নাঈম। । শেষটা হতে বেশিক্ষণ সময় লাগল না। ২৯৬ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংসে পায় ১১৩ রানের লিড