ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের অস্বাভাবিক চাপে রাজধানী দিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালের করোনা ইউনিটের এক চিকিৎসক আত্মহত্যা করেছেন।
ভারতের মেডিকেল এসোসিয়েশনের সাবেক প্রধান ডা. রাভি ওয়াংখেদার এক টুইট বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবর-এনডিটিভি
ডা. রাভি ওয়াংখেদার টুইট বার্তায় বলেন, ‘ডা. ভিভেক রায় গত একমাস ধরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। প্রতিদিন প্রায় ৭ থেকে ৮ জন সংকটাপন্ন রোগীর দেখাশুনা করতেন। চোখের সামনে করোনা রোগীদের মৃত্যু দেখতে দেখতে তরুণ এই চিকিৎসক হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েন।’
ডা. ভিভেক রায় খুব মেধাবী একজন চিকিৎসক ছিলেন। এই করোনা মহামরীর সময় শত শত মানুষের চিকিৎসা করেছেন। চোখের সামনে করোনা আক্রান্তদের মৃত্যু দেখে দেখে তিনি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়লে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেন। তার ঘরে দুই মাসের সন্তানসম্ভবা স্ত্রী রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
দেশটির বর্তমান ভঙ্গুর চিকিৎসা ব্যবস্থা, রাজনীতি এবং ব্যবস্থাপনাকে তরুণ এই চিকিৎসকের মৃত্যুর জন্য দায়ী করে টুইটারে খোভ প্রকাশ করেন ডা. রাভি ওয়াংখেদার।
ভারতে গতকাল শুক্রবার রেকর্ড চার লাখের বেশি মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মহামারির শুরু থেকে বিশ্বজুড়ে কোনো দেশে এক দিনে এত মানুষ আক্রান্ত হয়নি। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৫২৩ জন করোনায় মারা গেছেন বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত মোট ১ কোটি ৯১ লাখ ৬৪ হাজার ৯৬৯ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মোট মৃত মানুষের সংখ্যা ২ লাখ ১১ হাজার ৮৫৩।