রোববার (১৫ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার গাবতলী এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত সোহান মিয়া ময়মনসিংহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে মেকানিক (কৃষি যন্ত্রপাতি)। তিনি উপজেলার পৌর এলাকার চরভবসুর পূর্বপাড়া গ্রামের সামিউল হকের ছেলে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইল্লাল সর্দার একই গ্রামের মৃত মোকছেদ আলীর ছেলে। এলাকায় তার বিরুদ্ধে মাদক কারবারির অভিযোগ রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
নিহত সোহানের পরিবার জানায়, ৬ মাস আগে কৃষি মন্ত্রণালয়ে তার চাকরি হয়। কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে তাকে ময়মনসিংহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মেকানিক পদে বদলি করা হয়। গত বৃহস্পতিবার তিনি বাড়ি ফেরেন।
রোববার বিকেলে ইল্লাল সর্দার তার সঙ্গে থাকা ৪-৫ সঙ্গী নিয়ে দেওয়ানগঞ্জ গাবতলি মোড়ে আলসাম নামের এক অটোরিকশাচালককে দেওয়ানগঞ্জ বাজারে যেতে বলেন। এ সময় অটোরিকশায় চার্জ না থাকায় চালক যেতে অস্বীকার করেন। এর একপর্যায়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। তারা অটোরিকশাচালক আলমাসকে মারপিট করে চলে যায়।
অটোরিকশাচালক আলমাস বাড়ি ফিরে এলাকার লোকজনকে বিষয়টি জানান। এতে এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে সোহানকে সঙ্গে নিয়ে ইল্লাল সর্দারের বাড়িতে যাচ্ছিলেন।
পথে ইল্লালকে গাবতলি মোড়ে পেয়ে মারপিটের প্রতিবাদ করেন। এ সময় কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে ইল্লাল তার পকেটে থাকা ছুরি দিয়ে সোহানের বুকে আঘাত করে।
পরে সোহানকে উদ্ধার করে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে দেওয়ানগঞ্জ থানার পুলিশ ঘাতক ইল্লাল সর্দারের মা তারা বানুকে আটক করেছে।
দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মহব্বত কবীর জানান, এ ঘটনায় ইল্লালের মাকে আটক করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে নিহতের বাবা সামিউল হক বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।