ads
মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১০:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: তারেক রহমান নোয়াখালী: হাজতখানাকে বিয়ে বাড়ি বানালেন দুই আ.লীগ নেতা! মিউজিক্যাল ফিল্মে সুনেরাহ পিএসসির সাবেক গাড়িচালক আবেদ আলীর ছেলে সিয়াম গ্রেপ্তার বাংলাদেশের পরিবর্তনে গনভোটে হ্যাঁ ভোট জরুরি: সাখাওয়াত হোসেন ফ্যাসিস্ট আমলে বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতি: লুটপাট ভয়াবহ আদানির চুক্তি রাষ্ট্রবিরোধী শিক্ষিকাকে গলা কেটে হত্যাচেষ্টা, সাবেক স্বামী গ্রেফতার বিসিসির সাবেক মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা সোনারগাঁয়ে যুবলীগের নেতা-নেত্রী গ্রেপ্তার জকসু নির্বাচন: ভোট গণনা স্থগিত হওয়ার পর নিয়ন্ত্রণ কক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ

দেশের বেহাল হাসপাতাল ও চিকিৎসা সংকট নিয়ে প্রশ্নবাণে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৬ জুন, ২০২২
  • ২৭ বার পঠিত

জেলা-উপজেলার হাসপাতালগুলোর করুণ দশা, নার্স-চিকিৎসক ও জনবল সংকট নিয়ে সংসদে প্রশ্নবাণে পড়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। রবিবার (৫ জুন) সংসদে সম্পূরক প্রশ্নে ফ্লোর নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা তাদের নির্বাচনি এলাকার স্বাস্থ্যখাতের জনবল সংকট নিয়ে প্রশ্ন করেন।

হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও নার্স সংকটের কথা স্বীকার করে সংসদ সদস্যদের তাদের এলাকার হাসপাতালে চিকিৎসকসহ জনবল পদায়নের আশ্বাস দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

করোনার সময় দেশে ১০ হাজার চিকিৎসক, ১৫ হাজার নার্স ও টেকনিশিয়ান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

সরকারি দলের সিনিয়র সংসদ সদস্য মাদারীপুর-২ আসনের শাজাহান খান তার নির্বাচনি এলাকায় সংকটের কথা তুলে ধরে বলেন, জেলার আড়াইশ’ বেডের হাসপাতাল ৫০ বেডের জনবল দিয়ে চলছে। ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির একটি ১০তলা ভবন নষ্ট হওয়ার পথে। একটি নার্সিং ইনস্টিটিউট হলেও জনবল নেই। কবিরাজপুরের ২০ বেডের হাসপাতালেও জনবল নেই।

জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কোভিডকালেও ডাক্তার, নার্স, টেকনিশিয়ান নিয়োগ দিয়েছি। কিন্তু প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটগুলোতে তাদের দিতে পারিনি। এখন পদায়ন করা হবে।

সরকারি দলের শফিকুল ইসলাম শিমুল তার সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, নলডাঙ্গা উপজেলায় একটি ৫০ বেডের হাসপাতাল করা হলেও চিকিৎসক নিয়োগ হয়নি। ডিও লেটার দিয়ে চিকিৎসক চেয়ে অনুরোধ করেছি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, করোনার সময় ১০ হাজার ডাক্তার নিয়োগ দিয়েছি। ১৫ হাজার নার্সও নিয়োগ দিয়েছি। ডাক্তারের স্বল্পতা আছে। তারপরও দিয়ে যাচ্ছি। ওখানে দ্রুত ডাক্তার দেওয়ার ব্যবস্থা করবো।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসনের তদরকি আছে কিনা প্রশ্ন তুলে আওয়ামী লীগের ধীরেন্দ্র দেব নাথ শম্ভু বলেন, বরগুনাকে ২০১০ সালে আড়ইশ’ বেডের হাসপাতাল দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ভবন নির্মাণ হয়েছে। কিন্তু ডাক্তার নেই। হাসপাতালের সভাপতি বানিয়ে রেখেছেন আমাদের। কিন্তু আমরা জনগণকে জবাব দিতে পারি না।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কোভিডের মধ্যে ৮টি নতুন হাসপাতাল উদ্বোধন হয়েছে। জেলা হাসপাতালগুলোর অনেকগুলো আড়াইশ’ বেডে উন্নীত হয়েছে। সেখানে জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। ডাক্তার-নার্সের কমতি থাকলে আমরা বিশেষভাবে দেখবো।

মাঠ প্রশাসনে তদারকির প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা সব জেলা-উপজেলার হাসপাতালের সঙ্গে প্রতিনিয়ত ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলি। আমাদের লোকজনও স্বশরীরে খোঁজ নিতে যান।

সরকারি দলের জিল্লুল হাকিম তার সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, উপজেলা পর্যায়ের প্রতিটি হাসপাতালে আপনারা ডাক্তার দিয়েছেন। অধিকাংশ বিভাগে কনসালটেন্ট নেই। এতে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। কনসালটেন্ট দেওয়া হলে সেবার মান বাড়বে।

জবাবে মন্ত্রী বলেন, অনেকগুলো ডিসিপ্লিনে কনসালটেন্ট দিতে হয়। তবে স্বল্পতা রয়েছে। কারণ একটি বিশেষ পর্যায়ে না গেলে কনসালটেন্ট দেওয়া যায় না। সেই প্রসেস চালিয়ে যাচ্ছি।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, জেলা সদরগুলোতে আধুনিক হাসপাতাল হচ্ছে। আধুনিক ভৌত অবকাঠামো হচ্ছে। কিন্তু অভিজ্ঞ জনবল নেই। অ্যানাথেসিস্ট নেই। যন্ত্রপাতিও নিম্নমানের। অনেক জায়গায় নার্সরাই অস্ত্রোপচার করেন। উপজেলা হাসপাতালে রোগী গেলে জেলা হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। জেলা থেকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় ঢাকায়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এখন আধুনিক এক্সরে মেশিন দেওয়া হয়েছে। তবে অ্যানাসথেসিস্টের অভাব রয়েছে। ঘাটতি পূরণের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ সম্পূরক প্রশ্ন করতে গিয়ে বলেন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে কিছু চিকিৎসক দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ইউনিয়ন পর্যায়ে অভিজ্ঞ চিকিৎসক নেই। তিনি জানতে চান অবৈধ ক্লিনিকের বিরুদ্ধে যে অভিযান চলছে, সেখানে অনেক জায়গায় দলীয় বিবেচনায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দলীয় বিবেচনায় কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এটি করতো বিএনপি। তারা কমিউনিটি ক্লিনিকও বন্ধ করে দিয়েছিল।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারি বলেন, তার এলাকায় একটি হাসপাতালে একটি মাত্র অপারেশন থিয়েটার আছে। কিন্তু সেখানেও কোনও অপারেশন হয় না।

বিকল্প ধারার সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান বলেন, তার এলাকার একটি উপজেলা হাসপাতাল ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত ডাক্তার-নার্স নেই। রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রসূতিদের চিকিৎসাব্যবস্থা নেই। সেখানে অপারেশন থিয়েটার থাকলেও ডাক্তার-নার্স নেই। অনেকে পোস্টিং নিয়ে এলাকায় থাকে না।

জবাবে মন্ত্রী বলেন, এটা সত্যিই একটা সমস্যা যে, উপজেলা পর্যায়ে ডাক্তার-নার্স সবসময় থাকেন না। বিষয়টি কঠোর নজরদারিতে নিয়ে আসছি।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মসিউর রহমান বলেন, রংপুর হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস ও ক্যানসার চিকিৎসার যন্ত্র ২০০১ সালে দেওয়া হলেও সেগুলো এখনও অব্যবহৃত পড়ে আছে। হাসপাতালে বললে তারা জানান এ বিষয়ে তারা কিছু বলতে পারবেন না। বলেন, মন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালের যন্ত্র এখনও চালু না হওয়াটা দুঃখজনক। বিষয়টি আগে নজরে আনা হলে ব্যবস্থা নেওয়া যেতো। ২০০১ সালের যন্ত্রের ইকোনমিক লাইফ এখন নেই। ওটা এখন চালু না হওয়ার কথা। নতুন যন্ত্র দিতে হবে। সে ব্যবস্থা করা হবে।

সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
ইঞ্জিনিয়ার মোঃ ওয়ালি উল্লাহ
নির্বাহী সম্পাদক
নিউজ রুম :০২-৯০৩১৬৯৮
মোবাইল: 01727535354, 01758-353660
ই-মেইল: editor@sristybarta.com
© Copyright 2023 - SristyBarta.com
Develop By : BDiTZone.com
themesba-lates1749691102