দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধগতির প্রতিবাদের বাম গণতান্ত্রিক জোটের ডাকা আধাবেলা হরতাল শুরু হলেও নগরবাসীর অনেকেই বিষয়টি জানেন না। কারা হরতাল ডেকেছে, আবার কেনইবা ডেকেছে সে বিষয়ে অবগত নন সাধারণ নাগরিকরা।
সকাল থেকে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকার নাগরিকদের সঙ্গে কথা বললে তারা এমনটাই জানান। এসব নাগরিক জানান, তারা হরতালের বিষয়ে জানেনই না।
রাজধানীর ধানমণ্ডি এলাকার রিকশাচালক সিদ্দিক মিয়ার কাছে হরতালের অবস্থা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘আজকে হরতাল? কি কন! জানি না তো।’
একই উত্তর অটোরিকশা চালক ফিরোজ হোসেনের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, কে হরতাল ডেকেছে জানি না তো।
মোহাম্মদপুরের ভ্রাম্যমাণ সবজি বিক্রেতা মামুন মিয়া বলেন, ‘হরতাল দেছে কেডা? কইতে পারি না তো। ভোরে তো কারুন বাজার (কারওয়ান) গেলাম। ওইহানেও তো কেউ কিছু কইলো না।’
হরতালের বিষয়ে জানেন না বেসরকারি চাকরিজীবী আসাদুজ্জামান। অন্যান্য দিনের মতো সকাল আটটার দিকে অফিসের উদ্দেশ্য মগবাজারের বাসা থেকে বাইকে করে মিরপুরের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। কারওয়ান বাজারে সিগন্যালে আটকা পড়া আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বাম দলগুলো হরতাল ডেকেছে অনেকদিন আগে পত্রিকায় পড়েছিলাম। কিন্তু সেই হরতাল আজ সেটা জানতাম না।’
হরতাল বিষয়ে জানেন না মোহাম্মদপুরের বিসমিল্লাহ রেফরিজারেশনের মালিক মিজানুর রহমানও। তিনি বলেন, ‘হরতাল! কই? আমার লোকজন তো সব আটটার মধ্যেই বের হইছে। যারে যে জায়গায় পাঠাইছি, পৌঁছে গেছে। রাস্তায়ও কোনো ঝামেলা হয় নাই।’
এদিকে বাম জোট হরতালেও খোলা রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। স্বাভাবিক দিনের মতোই চলছে দোকানপাট। প্রভাব নেই জনজীবনেও।
দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ২৮ মার্চ সারাদেশে অর্ধদিবস হরতালের ডাক দিয়েছিল বাম গণতান্ত্রিক জোট। গত ১১ মার্চ এই হরতালের ডাক দেয় বাম জোট। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী সেদিন হরতালের ডাক দেন। যদিও হরতাল ডেকে এখন দেশে নেই তিনি। এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সপরিবারে দেশের বাইরে আছেন তিনি।
আজ সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত হরতাল কর্মসূচি পালিত হবে।
#ঢাকা মেইল