সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, অন্যথায় জনগণ টেনে-হিঁচড়ে ক্ষমতা থেকে নামাবে।
শনিবার দুপুরে খুলনায় বিএনপির গণসমাবেশে তিনি এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। নগরীর সোনালী ব্যাংক চত্বরে এ সমাবেশ হয়।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ সরকারের স্বৈরাচারী আচরণের কারণে আরও বেশি সফল হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করেছে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালো রাতে যখন হানাদার বাহিনী ঝাপিয়ে পড়ে, তখন কোথায় ছিল আওয়ামী লীগ। সেসময় জিয়াউর রহমান দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নাকি লোডশেডিং বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন, তাহলে এখন কী হচ্ছে। দেশে সামনের বছর দুর্ভিক্ষের কথা বলছেন। আপনারা দ্রুত পদত্যাগ করুন। আর না হয় স্বৈরচারী সরকারকে দেশের জনগণ টেনে হিঁচড়ে নামাবে।’
গণসমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ‘খুলনায় মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করেছে এই সরকারকে জনগণ আর চায় না। বিএনপি খুলনা বিভাগে যে গণসমাবেশ ডেকেছে তা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। কক্সবাজারে যেমন যতদূর দৃষ্টি যায়, পানি দেখা যায়। আজকে যতদূর দৃষ্টি যায়, শুধু মানুষ আর মানুষ। ভয় পেয়ে সরকার দুই দিনের হরতাল ডেকেছে। আমরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই, আওয়ামী লীগের অধীনে আর কোনো নির্বাচন হবে না।’
খুলনা জেলার প্রতিজন নেতাকর্মীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘শত বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে তারা সমবেত হয়েছেন। এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে আমাদের বিভন্ন জেলা-উপজেলার ২০০ নেতাকর্মীকে পুলিশ আটক করেছে। পথে পথে হামলা হয়েছে। এই হামলা পুলিশ ও শেখ হাসিনার পেটোয়া বাহিনী চালিয়েছে।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘এই সরকারের বাহিনী হানাদার বাহিনীর চেয়েও খারাপ। তাদের পতন অবশ্যম্ভাবী। আগের দিন আমাদের ওপর বাধা আসলে আমি পুলিশ কমিশনারকে চারবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে মেসেজ দিয়েছি, তবু রিপ্লাই দেয়নি। আমরা হাসিনা সরকারের কাছ ক্ষমতা ভিক্ষা চাইনি, মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে বলেছি।’
শেখ হাসিনার অধীনে আর কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, অচিরেই আওয়ামী লীগকে উৎখাত করে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ১০টি আসনও পাবে না। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট সরকারকে পরাজিত করা হবে।