১৮ বছরেও বিচার পাননি সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ধর্ষণের শিকার মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী। এখনো হামলার ভয় ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটে ওই পরিবারের।
লাঞ্চিত হওয়ার পর তখনকার বিরোধীদলীয় নেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে দেখতে এসেছিলেন। তার ওপর হামলার বিচার শুরু হলেও, নির্যাতিতা নারীর পরিবার এখনো আছেন বিচারের অপেক্ষায়।
১৯৯৬ সালে মুক্তিযোদ্ধা আতিয়ার রহমান ও তার স্ত্রীর নামে ১৪ শতক খাস জমি বরাদ্দ দেয় সরকার। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আগের দখলদারদাররা ২০০২ সালের ২৬শে আগস্ট মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে দলবেঁধে ধর্ষণ করে।
চিকিৎসাধীন ওই নারীকে দেখতে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে যান তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঢাকায় ফেরার পথে ওই দিনই কলারোয়ায় তার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে।
দীর্ঘ ১৮ বছর পর শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হলেও এখনো ধামাচাপা পড়ে আছে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে ধর্ষণ মামলার বিচারকাজ। শিগগিরই বিচার প্রক্রিয়া শুরুর দাবি সেই নিযার্তিতা নারী।
বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী মাহফুজা খাতুন বলেন, “গাঁয়ে কেস মিটায় নিছিল মনেহয়, বিচার আমি দেখিনি। আমি চাই এই মামলার বিচার হোক, নেত্রীর মামলার বিচারের পাশাপাশি আমার মামলার বিচার হোক আমি তা দেখে যেতে চাই।”
ধর্ষিতার ছেলে শাহারিয়ার মাহমুদ বদিরুল বলেন, ‘আমার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আতংকের মধ্যে থাকি। সবসময় তারা হুমকি-ধামকি দেয়। আমাদের সবার জীবনটা তারা নষ্ট করছে।’
কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর খায়রুল কবীর বলেন, “ভুক্তভুগী যদি কোন নিরাপত্তাহীনতার অভাব বোধ করে, তার নিরাপত্তার জন্য যা যা করনীয় সমস্ত ব্যবস্থা কোলারোয়া থানা পুলিশ তথা সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে করা হবে।”