স্থায়ী ক্যাম্পাসের দাবিতে রাজধানীর ধানমন্ডির সড়কে অবস্থান নিয়েছেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ধানমন্ডি শাখার ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকরা। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তারা মিরপুর রোডে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
ধানমন্ডি আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের সড়কের মোড়ে অবস্থান নিয়ে স্থায়ী ক্যাম্পাসের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান। এতে মিরপুর থেকে নিউ মার্কেট সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
এসময় আন্দোলনরত ছাত্রীরা ‘আমাদের দাবি মানতে হবে, স্থায়ী ক্যাম্পাস দিতে হবে’ স্লোগান দেন। তারা বলছেন, ভিকারুননিসার চারটি শাখার মধ্যে এটিই প্রথম অনুমোদিত শাখা। ভাড়া করা বাড়িতে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম চলছে।
‘দীর্ঘদিন হওয়ায় ভবনের টেম্পার চলে গেছে। অধ্যক্ষ সেটা জানেন। কিন্তু তিনি নতুন ভবন বা স্থায়ী ক্যাম্পাসের উদ্যোগ নেননি। লস প্রজেক্ট দেখিয়ে এই শাখা এখন বন্ধের চেষ্টা করছে। সেজন্য ছাত্রী ও অভিভাবকরা রাস্তায় নেমেছেন।’
জানা গেছে, সাবেক অধ্যক্ষ ফওজিয়া স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জমির বায়না করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান অধ্যক্ষ কামরুন নাহার এসেই সেটা বাতিল করে দেন। এরপর ধানমন্ডি শাখার কয়েকজন শিক্ষককে মৌখিক নির্দেশে বদলি করা হয়।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, জমির বিষয়ে তারা জানতে পেরেছেন, বড় একটা কোম্পানি এরই মধ্যে বায়না করেছে। সে কারণে ধানমন্ডিতে স্থায়ী ক্যাম্পাসের দাবিতে মানববন্ধন করছেন।
এ বিষয়ে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার বলেন, ‘স্থায়ী ক্যাম্পাসের দাবিতে ধানমন্ডিতে মানববন্ধন হচ্ছে শুনেছি। তবে এ বিষয়ে কোনো শিক্ষক বা অভিভাবক আমাদের কিছু জানাননি।’
এদিকে রাস্তায় যানজট নিরসরে পুলিশের পক্ষ থেকে তাদেরকে সড়ক ছেড়ে দিতে বারবার বলা হচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা সড়ক ছাড়েনি। রমনা ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার জয়নুল আবেদিন বলেন, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ কাজ করছে। দ্রুত যানজট কমানো সম্ভব হবে।’
ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ এসে আশ্বাস না দিলে শিক্ষার্থীরা সড়ক ছাড়তে রাজি হচ্ছেন না জানিয়ে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম আলী ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমরা তাদের বুঝিয়ে শুনিয়ে অনেক চেষ্টা করলেও ছাত্রীরা সড়ক ছাড়ছেন না। ছাত্রীরা স্থায়ী ক্যাম্পাসের ঘোষণা পেলেই সড়ক থেকে সরবেন বলে জানিয়েছেন।’
ওসি ইকরাম বলেন, ‘ভিকারুননিসার ছাত্রী আর অভিভাবকরা সড়ক অবরোধ করায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যানজট নিরসনে আমাদের বেগ পেতে হচ্ছে।’
#ঢাকাটাইমস