নেত্রকোনার মদনে ধান চুরির অপবাদ দিয়ে এক যুবকের বিরুদ্ধে এক ভিক্ষুককে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠেছে। মারধরের পর ওই ব্যক্তিকে চোর আখ্যা দিয়ে উল্টো থানায় এনে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ওই যুবককে আটক করে।
https://youtu.be/LBvd0QKUx4o
গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের বারোগরি পূর্বহাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার ওই ব্যক্তির নাম আবদুল বারেক। তিনি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার বনহাটি গ্রামের বাসিন্দা। আর অভিযুক্ত যুবক হলেন মো. মাসুদ মিয়া। তিনি বারোগরি পূর্বহাটি গ্রামের মোক্তার হোসেনের ছেলে।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা, পুলিশ ও নির্যাতনের শিকার ওই ব্যক্তির স্বজনরা জানান, বারেক কয়েক বছর ধরে বোরো ধান কাটার মৌসুমে মদনের গোবিন্দশ্রী এলাকায় এসে হাওরাঞ্চলের পাড়ায় পাড়ায় ধান ভিক্ষা করেন। এ বছর তিনি গোবিন্দশ্রী গ্রামের আবদুল খালেকের ছেলে ঝুমন মিয়ার একটি পরিত্যক্ত ঘরে বসবাস করে ভিক্ষা করছিলেন। গতকাল দুপুরে বারোগরি পূর্বহাটি এলাকায় মোক্তার হোসেনের ছেলে খাইরুল মিয়া তার বিরুদ্ধে খলা থেকে ধান চুরির অভিযোগ তোলেন। কিন্তু ভিক্ষুক বারেক চুরির অভিযোগ অস্বীকার করলে তাকে একটি বাঁশের খুঁটির সঙ্গে হাত-পা বেঁধে রাখা হয়।
খাইরুলের ছোট ভাই মাসুদ মিয়াসহ কয়েকজন এসে ওই ব্যক্তিকে মারধর করেন। শেষে মাসুদ তার ওপর নির্যাতন চালান। পরে দুই বস্তা ধান চুরির অপবাদ দিয়ে সন্ধ্যায় তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি নেত্রকোনা পুলিশ সুপারের নজরে আসে। পরে তার নির্দেশে রাত ২টার দিকে পুলিশ মাসুদ মিয়াকে আটক করে এবং বারেককে হাসপাতালে ভর্তি করে। বৃহস্পতিবার সকালে বারেককে আবার থানায় এনে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়। পুলিশি হেফাজতে থাকায় অভিযুক্ত মাসুদ মিয়া ও নির্যাতনের শিকার বারেকের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
তবে মাসুদের বড় ভাই খাইরুল ইসলাম বলেন, বারেক আমার দুই বস্তা ধান চুরি করেছে। তাকে হালকা শাসন করা হয়েছিল। পরে পুলিশে খবর দিয়ে দুই বস্তা ধানসহ তাকে থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়।
এ ব্যাপারে বারেকের ছেলে আজিজুল মিয়া জানান, আমরা গরিব মানুষ। আমি পোশাক কারখানায় কাজ করি। আমার বাবা চার-পাঁচ দিন আগে মদনের গোবিন্দশ্রী একটি বাড়িতে থেকে ধান সাহায্য তুলে। এখন আমার বাবারে তারা চুরির অপবাদ দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করেছে। আবার উল্টা মামলা করেছে।
মদন থানার ওসি বলেন, বারেককে মারধরের ঘটনায় মাসুদ মিয়াকে আটক করা হয়েছে। বারেক এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। তাকে হাসপাতাল থেকে থানায় এনে রাখা হয়েছে। বারেকের বিরুদ্ধে মাসুদের ভাই থানায় একটি চুরির মামলা করেছেন।
পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুন্সী বলেন, বারেককে নির্যাতনের ভিডিওটি পুলিশের নজরে এসেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। বারেকের বিরুদ্ধে চুরির মামলা হলেও তিনি চাইলে তাকে যারা নির্যাতন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবেন।