রাজধানীর ধামরাইয়ে এক ছাত্রীর বাল্যবিয়েতে বাধা দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে গ্রামবাসীর ওপর বরযাত্রী ও কনের পরিবারের হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। পরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়া বরযাত্রীকে পুলিশ উদ্ধার করেছে। উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম সূত্রাপুর গ্রামের আবদুর রশিদের বাড়িতে শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে।
সরেজমিন জানা যায়, সূত্রাপুর গ্রামের আবদুর রশিদ তার স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে একই উপজেলার সানোড়া ইউনিয়নের পূর্ব বাসনা গ্রামের নুরুল হকের ছেলে আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে বিয়ের আয়োজন করা হয়। এতে বাদ সাধেন গ্রামবাসী। তারা সংঘবদ্ধভাবে বাধা দেন বিয়েতে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বরযাত্রী ও কনের বাড়ির লোকজন লাঠিসোঠা নিয়ে গ্রামবাসীর ওপর হামলা চালান। গ্রামবাসী আত্মরক্ষার্থে পাল্টা আক্রমণ করলে সংঘর্ষ বেধে যায়। দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে গ্রামবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে বরযাত্রীদের ওই বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে কাওয়ালীপাড়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে বরযাত্রীরা মুক্তি পান। গ্রাম্য সালিশি বৈঠকে বিষয়টি নিষ্পত্তির আশ্বাস দেয়ার পর গ্রামবাসী ওই বাড়ির সামনে থেকে চলে যান।
কাওয়ালীপাড়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপুলিশ পরিদর্শক আবু সাইদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, খবর পেয়ে ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি। বিষয়টি গ্রামীণভাবে মিলমিশ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন গ্রাম হিতৈষীরা।
বালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও স্থানীয় মাতব্বর আবদুল গণি সুমন বলেন, ঘটনাটি অপ্রত্যাশিত ও অনাকাক্সিক্ষত। এরপরও আমরা গ্রামের শান্তির লক্ষ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।