সাবেক সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন চট্টগ্রামের আদালত। বুধবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. নুরুল ইসলাম তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন।
এদিন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের চারটি পৃথক আদালত নদভীকে আরও পাঁচ মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর আদেশ দিয়েছেন। এসব মামলার শুনানিতে হাজিরের জন্য সকালে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তায় নদভীকে আদালতে নেওয়া হয়।
দুদকের আইনজীবী কাজী ছানোয়ার হোসেন লাবলু জানান, দুদক আবেদনে উল্লেখ করেছেন- চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তার বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। পরে তদন্তের দায়িত্ব পায় দুদক। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্যও পেয়েছে দুদক। এ অবস্থায় তদন্তের স্বার্থে দুদকের পক্ষ থেকে তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হলে আদালত সেটা মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি, পাঁচলাইশ, ডবলমুরিং এবং চান্দগাঁও থানার মোট পাঁচটি মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য নদভীকে গ্রেফতার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করে পুলিশ। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেয়। এর মধ্যে তার বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ থানায় দায়ের করা একটি মামলার শুনানি হয়েছে চট্টগ্রাম অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সরকার হাসান শাহরিয়ারের আদালতে।
এ ছাড়া প্রথম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মো. আবু বকর সিদ্দিকের আদালতে ডবলমুরিং থানার একটি, চতুর্থ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তফার আদালতে চান্দগাঁও থানার দুইটি এবং ষষ্ঠ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শরীফুল ইসলামের আদালতে কোতোয়ালি থানার একটি মামলার শুনানি হয়েছে।
৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর পলাতক ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী। গত ১৫ ডিসেম্বর ঢাকার উত্তরা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তিনি আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) অধ্যাপক ছিলেন। তিনি ২০১৪ সালের দশম ও ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।