১২ ডিসেম্বর, নরসিংদী হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ এ নরসিংদী জেলার বিভিন্ন স্থানে নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায় পাকবাহিনী। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে ১২ ডিসেম্বর পুরোপুরি শত্রুমুক্ত হয় নরসিংদী।
১৯৭১ সালের ১২ ডিসেম্বর নরসিংদীতে সমাপ্তি ঘটে নয় মাসের শ্বাসরুদ্ধকর সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের। মুক্তিবাহিনীর হাতে পরাজয় বরণ করে পাক হানাদাররা। কিন্তু যারা দেশের জন্য অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছিলো, স্বাধীনতার ৪৯ বছর পর তাদের গণকবরগুলো রয়েছে অযত্ন আর অবহেলায়। কোথাও কোথাও রার উদ্যোগ নেয়া হলেও কেবল থমকে আছে সে পর্যন্তই, দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন হয়নি এসব স্মৃতি রক্ষায়।
জেলার এমন কোন এলাকা নেই যেখানে শত্রু সেনাদের নিষ্ঠুর ছোবল পড়েনি। সে সময়ের নির্মম হত্যাযজ্ঞের কথা মনে করে এখনো ভয়ে আতকে উঠে নরসিংদীবাসী। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাঁচদোনা ব্রিজ, শিলমান্দী মাছিমপুর বিল, খাটেহারা ব্রিজ, মনোহরদীর ব্রহ্মপুত্র নদের তীর, শিবপুরে ঘাসিরদিয়া, পুটিয়া, বেলাব আড়িয়াল খাঁ নদীর পাশে, রায়পুরা মেথিকান্দা রেল ষ্টেশনের গণকবর রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ গণকবরই রয়েছে অবহেলায়। নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাস অম্লান রাখতে গণ কবরগুলো সংরণ করার দাবি মুক্তিযোদ্ধাদের।
মহান মুক্তিযুদ্ধে চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর জানিয়ে নরসিংদীর জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন জানান, গণকবরগুলো রক্ষার কর্যক্রম চলমান। ৭টির মধ্যে পাঁচটি গণকবর সংরক্ষণের বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। অচিরেই তা বাস্তবে পরিণত হবে।
নরসিংদীর জেলার বিভিন্ন স্থানে শতাধিক খন্ডযুদ্ধে অংশ নিয়ে পাকিস্তানি সৈন্যদের নির্মমতার শিকার হয়ে শহীদ হন ১১৬ জন বীর সন্তান।