নাটোরের শেফা ক্লিনিকে ভুল অপারেশনে দুলালী বেগম (২৯) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার বিকেলে নিহত দুলালী বেগমের লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুন) রাতে দুই চিকিৎসক ও হাসপাতালের মালিকসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে নাটোর থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, নাটোর সদর উপজেলার দত্তপাড়া এলাকার রাইজুল ইসলামের ছেলে শাওনের স্ত্রী দুলালী বেগম অসুস্থ হলে এক গ্রাম্য চিকিৎসকের পরামর্শে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে তাকে শহরের শেফা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। রাত ৮টার দিকে চিকিৎসক আল আমিন ও চিকিৎসক সম্রাট তার জরায়ুর অপারেশন শুরু করে।
অপারেশনের পর রোগীর অবস্থা খারাপ হওয়ায় রোগীকে রাজশাহী নেয়ার কথা বলে। রাত ১০টার দিকে রোগীকে রাজশাহী নেয়ার জন্য নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের একটি অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। এর কিছু পরেই শহরের বাইপাস রোডের একটি পেট্রল পাম্পে নিয়ে অন্য অ্যাম্বুলেন্সে রোগীকে তুলে দিয়ে সঙ্গে থাকা শেফা ক্লিনিকের পরিচালক সুজন মণ্ডল পালিয়ে যায়। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুলালী বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের দেবর সোহান বাদী হয়ে শেফা ক্লিনিকের পরিচালক তোজাম্মেল হোসেন জিলানী, সুজন মণ্ডল, গ্রাম্য চিকিৎসক রয়েল, শেফা ক্লিনিকের চিকিৎসক আল আমিন ও সম্রাটসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে নাটোর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। গৃহবধু দুলালী মারা যাওয়ায় এখন হত্যা মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন সোহান।
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য শেফা ক্লিনিকে গিয়েও কোন পরিচালককে পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের পরিচালক সুজন মণ্ডলের দুটি মোবাইল নম্বরে বার বার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
নাটোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছিম আহমেদ বলেন, লাশের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।