ব্রাহ্মণবাড়িয়া আখাউড়ায় শারমিন বেগম নামে এক নারীকে নৃশংসভাবে হত্যার পর আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় আটক ফারহান রনি পুলিশের প্র্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। রনির কাছে মেয়ে দিয়ে শারমিন বেগম তাদের সম্পত্তি গ্রাস করতে চাওয়ায় তাতে হত্যা করেছে বলে দাবি রনির। বুধবার সকালে আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ছমিউদ্দিন এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের যুবলীগ নেতা শাহনেওয়াজ ভূইয়ার রহিমপুর গ্রামের বাড়ি থেকে শারমিন বেগমের আগুনে পুড়া মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিনই শাহনেওয়াজ ভূইয়ার ছেলে ফারহান রনি (৩০) কে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শারমিন বেগমের বড় মেয়ে রুমা আক্তার ফারহান রনিকে একমাত্র আসামী থানায় মামলা করেন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, নিহত শারমিন বেগম ও তার স্বামী নুরুল ইসলাম বিগত ৪০ বছর ধরে শাহনেওয়াজ ভূইয়ার হীরাপুর গ্রামের একটি জায়গায় মাটির ঘর করে বসবাস করতো। আগে শাহনেওয়াজ ভূইয়ার বাড়ির কাজকর্ম করতো। এখন ভিক্ষাবৃত্তি ও মানুষের বাড়িতে কাজ করে দিনাতিপাত করে। তাদের তিন মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ছেলে সন্তান নাই। মঙ্গল রাতেও শারমিন বেগম ঘরেই ছিল। ভোরে পুলিশের হাতে আটক ফারহান রনি তার মা অসুস্থ বলে শারমিন বেগমকে ডেকে নিয়ে যায়।
নিহত শারমিন বেগমের স্বামী নুরুল ইসলাম বলেন, ভোরে ঘুম থেকে গাঁও করতে (ভিক্ষা) যাওয়ার সময় আমার স্ত্রী ঘরেই ছিল। বিকালে ফিরে শুনি আমার স্ত্রীকে হত্যা করেছে। কেন হত্যা করেছে কিছু বুঝতে পারছি না।
এদিকে মামলার বাদী রুমা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, রনি হাঁস চুরি করে রান্না করে দিতে বলেছিল তার মাকে। হাঁস রান্না করে না দেওয়ায় মাকে হত্যা করেছে রনি।
এ বিষয়ে আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ছমিউদ্দিন বলেন, আটক ফারহান রনি প্রাথমকিভাবে হত্যার দায় স্বীকার করে বলেছে শারমিন বেগম তার মেয়েকে বিয়ে দিয়ে তাদের সম্পত্তি দখল করতে চেয়েছিল। তাকে বস করতে তাবিজ করেছিল বলে দাবী করে সে। আজ (বুধবার) তাকে আদালতে পাঠিয়ে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে।
#যায়যায়দিন