ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাড়ির পাশের গলি থেকে এক নারীর অর্ধদগ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার শহরের কালিবাড়ী (তাঁতিপাড়া) এলাকায় শহীদ মোহাম্মদ আলী সড়ক সংলগ্ন গলি থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। প্রতিবেশীরা বলছেন, ঘটনাটি রহস্যজনক মনে হচ্ছে। পারিবারিক কোনো ঘটনা ধামাচাপা দিতে মিলি চক্রবর্তী (৪৫) নামের ওই নারীর দেহ আগুনে পুড়িয়ে গলিতে ফেলা হয়ে থাকতে পারে বলে তাদের ধারণা। তবে সকালে হাঁটতে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পর মিলির লাশ পাওয়া যায় বলে নিহতের স্বামী সমীর কুমার রায় ওরফে সোনার দাবি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রতিবেশী বলেন, বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মিলিকে তার বাড়িতে চলাফেরা করতে দেখা গেছে। তার সঙ্গে আসলে কী ঘটেছে, তা উদ্ঘাটন করতে হবে। তার দেহ পুড়িয়ে প্রকৃত ঘটনা অন্যদিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে।
ছেলে অর্ক রায় রাহুল বলেন, তিনি অসুস্থ ছিলেন, তাই কিছু বলতে পারছেন না। সকালে তার স্ত্রী ঘুম থেকে ডেকে বলেন, জানালা দিয়ে এক নারীর মরদেহ দেখা যাচ্ছে। অনেকটা তার মায়ের মতো। এ কথা শুনে তিনি ৯৯৯ নম্বরে কল দিয়ে পুলিশকে জানান।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি তানভীরুল ইসলাম বলেন, লাশ উদ্ধারের ঘটনায় পরিবারের লোকজনকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজিয়া সুলতানা বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কোনো দাহ্য পদার্থ দিয়ে মরদেহ পোড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। বিবস্ত্র অবস্থায় পাওয়ায় ধর্ষণের পর হত্যার বিষয়েও সন্দেহ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় পুলিশ ছাড়াও সিআইডি ও পিবিআই তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।