হ্যারি পটার, হারমাওনি গ্রেঞ্জার আর রন উইজলি- ‘হ্যারি পটার’ মুভি সিরিজের প্রধান এই তিন চরিত্রের বাইরে পদ্ম পাতিলের চরিত্রটির কথা আজীবন মনে রাখবেন উপমহাদেশের হ্যারি পটার ভক্তরা। চরিত্রটিতে অভিনয় করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ অভিনেত্রী এবং মডেল আফসান নুর আজাদ। সম্প্রতি সম্প্রতি তিনি একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েন। মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) ইন্সটাগ্রামে এ কথা নিজেই জানালেন ৩২ বছর বয়সী এ মডেল।
তবে বিশ্বজুড়ে আফসান বেশি পরিচিতি পেয়েছেন তার ব্যক্তিগত জীবনের নানা ঘটনা প্রবাহের মাধ্যমে। ইংল্যান্ডের ম্যাঞ্চেস্টারে জন্ম ও বেড়ে ওঠা আফসান এক বাংলাদেশি মুসলিম পরিবারের মেয়ে। হিন্দু ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার ‘অপরাধে’ পরিবারের সম্মান বাঁচাতে তার বাবা-ভাই তাকে খুন পর্যন্ত করতে গিয়েছিলেন!
আফসানের বয়স তখন ২২। ‘হ্যারি পটার’-এর সৌজন্যে তখন তিনি অত্যন্ত পরিচিত মুখ। সে দিন বাড়িতেই ছিলেন আফসান। গোসল করতে ঢুকেছিলেন দোতলার বাথরুমে।
মোবাইল ফোনে লুকিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি। ফোনে কথা বলা শুনতে পেয়ে তখনই তার বড় ভাই আশরাফ বাথরুমের দরজা ভেঙে তার চুল ধরে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে বের করে আনেন তাকে। তারপর দেওয়ালে কয়েক বার মাথা ঠুকে টানতে টানতে নীচের তলায় বাবার ঘরে নিয়ে যান। বাবা তখন বিছানায় বসে ছিলেন। সেই খাটে মাথা ঠুকে ফেলে দেন আফসানকে।
মেয়ের প্রেমের কথা জানার পর ছেলেকে প্রতিহত করার বিন্দুমাত্র চেষ্টা করেননি বাবা বরং ছেলেকে নির্দেশ দেন মেয়েকে মেরে ফেলার। আফসানের চিৎকার শুনে তার ভাবী এবং মা ছুটে এলেও তারা কেউ আফসানের পাশে দাঁড়াননি।
আফসানের সারা গায়ে-মুখে মারধোরের চিহ্ন স্পষ্ট। চোখ, ঠোঁটের চারপাশ ফুলে উঠেছিল। সেই অবস্থাতেই তাকে দোতলার একটি ঘরে বন্দি করে রেখে তার প্রেমিকের খোঁজে বেরিয়ে যান বড় ভাই।
এমন অবস্থায় আফসানের সামনে তখন দু’টি শর্ত রাখেন তারা। হয় তাকে বাংলাদেশে নিয়ে গিয়ে পরিবারের পছন্দ মতো কোনও পাত্রকে বিয়ে করতে হবে, না হলে পরিবারের সম্মান রক্ষার্থে তাকে খুন করা হবে।
অসহায় বোধ করছিলেন আফসান। নিজের ঘর যেখানে সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়, সেই ঘরে সৃষ্টি হলো প্রাণনাশের সংশয়। সুযোগ বুঝে দোতলার ঘর থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে যান তিনি।
তারপর সোজা থানায় গিয়ে ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেয় পুলিশও। ভাই এবং বাবাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে বাবা জামিনে ছাড়া পেয়ে গেলেও ৬ মাসের জন্য জেল হয় বড় ভাইয়ের।
আফসান যদিও সকললেই ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। নিজে চিঠি লিখে ভাইয়ের মুক্তি চেয়েছিলেন বিচারকের কাছে। তাঁর চিঠির বয়ান ছিল, ভাইকে তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন তাই তাকে ছেড়ে দেওয়া হোক। যদিও বিচারক অপরাধের গুরুত্ব বুঝে দাদার শাস্তি নাকচ করেননি।
তারপর কেটে গেছে অনেকগুলো বছর। পরিবারের সঙ্গে থেকেছেন আফসান। পরিবার তার সঙ্গে কী ব্যবহার করত, এরপরও কোনদিন ভায়োলেন্সের শিকার হতে হয়েছিল কি না, সে সব নিয়ে আর কখনও মুখ খুলতে দেখা যায়নি আফসানকে। তার সেই প্রেমিকেরই বা কী হল, তাও জানা যায়নি।
আফসান নিজে একজন মডেল এবং অভিনেত্রী। তবে ‘হ্যারি পটার’ এর পর আর কোনও ছবি তিনি করেননি। তবে মাঝে মধ্যে মডেলিং করেন।
২০১৮ সালে পরিবারের সম্মতিতে নাবিল কাজি নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের বিয়েতে হ্যারি পটার সিরিজের একাধিক অভিনেতা হাজির ছিলেন। সম্প্রতি একটি কন্যা সন্তানের মা হয়েছেন তিনি।