নেত্রকোনার মদন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় স্বামী পলাতক রয়েছেন।
জানা গেছে, জেলার মদন উপজেলার মদন সদর ইউপির মৃত আলী হোসেনের ছেলে হুমায়ূন। ৯ বছর আগে পারিবারিকভাবে সাজেদাকে বিয়ে করেন। দাম্পত্য জীবনে ৭ বছর বয়সী একজন ছেলে রয়েছে তাদের। কর্মজীবনে ৩ বছর মালয়েশিয়া ছিলেন হুমায়ূন। গত ২ মাস আগে বাড়িতে আসেন। শুক্রবার আবার মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দেয়।
পুলিশ জানায়, স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্যের এক পর্যায়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজ বসত ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস নেন সাজেদা আক্তার। এ সময় স্বামী হুমায়ূনের ডাক-চিৎকারে প্রতিবেশী লোকজন সাজেদাকে উদ্ধার করে মদন হাসাপাতালে নিয়ে আসেন। মদন হাসাপাতালের জরুরি বিভাগের কতর্ব্যরত চিকিৎসক সাজেদাকে মৃত ঘোষণা করেন। মারা যাওয়ার খবর শুনেই স্বামী হুমায়ূন স্ত্রীর মরদেহ হাসপাতালে রেখেই পালিয়ে যান।
এ ব্যাপারে মরদেহের কাছে থাকা হুমায়ূনের বড় ভাই আবুল বাশার বলেন, সাজেদা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে খবর শুনে হাসাপতালে আসি। লাশের সঙ্গে পুলিশ আমাকে আটকে রাখলে সবাই পালিয়ে যায়। আমি একাই লাশের সঙ্গে আছি।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফেরদৌস আলম বলেন, ওই নারীর স্বামী শুক্রবার বিদেশ যাওয়ার কথা ছিলো। তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হলে স্ত্রী অসুস্থ হয়ে যায়। এরপর স্বামী নিজেই হাসপাতালে নিয়ে আসে। এক পর্যায়ে হুমায়ুন সটকে পড়েন। এদিকে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করলে লাশ হাসপাতালের বারান্দাতেই ছিলো। খবর পেয়ে লাশের ময়নাতদন্তের জন্য সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে নেত্রকোনা মর্গে পাঠাই। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।