ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার দত্তনগরে অবস্থিত এশিয়ার বৃহত্তম বীজ ফার্ম। এ ফার্মের বিলের মাছ বিক্রি করে সরকারের কোষাগারে প্রতি বছর কোটি টাকা রাজস্ব জমা হয়েছে। তবে বিগত দুই বছর ধরে এর ব্যতিক্রম ঘটছে। কোনো ধরনের দরপত্র, নিলাম ছাড়াই মথুরা খামারের শোলকুড় বিল ও সেচ খালের দেশীয় প্রজাতির মাছ ভাগাভাগি করে নিয়েছেন ফার্মের কর্মকর্তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর কোটেশন-টেন্ডারের মাধ্যমে খাল ও বিলের মাছ বিক্রি করা হয়। ফার্মের বর্তমান কর্মকর্তারা এসবের ধার ধারছেন না। গত সাতদিন পানি সেচে বিল ও খালের সব মাছ নিজেরা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন তারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে- কৈ-শিং-শোল-গজারসহ দেশীয় প্রজাতির সব মাছ নিজেরা ভাগ করে নিচ্ছেন কর্মকর্তারা। কয়েকজন তো আবার সরকারি গাড়িতে চড়েই এসেছেন ভাগের মাছ নিতে।

ফার্মের শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিল-খালের সব মাছ কর্মকর্তারা প্রকাশ্যেই ভাগাভাগি করে দেন। সবাই দেখে কিন্তু ভয়ে কেউ কিছু বলে না। কয়েকজন শ্রমিক প্রতিবাদ করায় তাদের চাকরিচ্যুত করার হুমকি দিয়েছেন কর্মকর্তারা।
দত্তনগর খামারের মথুরা ফার্মের সাবেক উপ-পরিচলক জহিরুল ইসলাম জানান, তার সময়ে উপস্থিত নিলাম বা কোটেশন করে মাছ বিক্রি করা হয়েছে।
আরেক সাবেক উপ-পরিচালক আলতাফ হোসেন জানান, তার সময়ে পানি বেশি থাকলে ৫-৬ লাখ টাকারও টেন্ডার হতো। পানি কম হলে নিলাম বা কোটেশন করা হতো। কিন্তু অবৈধভাবে ভাগাভাগি হতো না।
দত্তনগর খামারের গোকুলনগর ফার্মের উপ-পরিচালক দেলোয়ার হোসেন জানান, সামান্য কিছু মাছ ধরা পড়েছে। এছাড়া মথুরা ফার্মের উপ-পরিচালক মজিবর রহমান খান তো কোনো প্রকার কোটেশন-নিলাম, টেন্ডারের কথা অস্বীকারই করলেন।