ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাথে রোনালদোর দ্বিতীয় ইনিংসের যোগসূত্র কে করলেন? কেনই বা ভাঙ্গলো য়্যুভেন্তাসের সাথে সম্পর্কের দেয়াল? ম্যান সিটির পিছুহটার নেপথ্য কারণই বা কি? এতগুলো প্রশ্ন একসুতোয় গাঁথা। উত্তরগুলোও বিচ্ছিন্ন নয়।
নয়দিনে কী এমন ঘটলো যে দলবদলের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো? আর নিলেনই যদি তবে সবচেয়ে আগ্রহী ম্যান সিটি কেন হলো না তার গন্তব্য? কীভাবে ম্যান ইউ ফিরিয়ে নিলো তাদের সেরা তারকাকে?
মাত্র তিন ঘন্টার ব্যবধানে। সিনেমার থ্রিলার গল্পকেও হার মানায় যা। য়্যুভেন্তাস থেকে ম্যানচেস্টার সিটিতে যাচ্ছেন রোনালদো। সব ঠিক। কিন্তু, ট্রান্সফার ফি দিতে রাজি হয়নি সিটিজেনরা। তখনই সরাসরি রোনালদোর এজেন্ট জর্জে মেন্দেসের সাথে যোগাযোগ করে রেড ডেভিলরা। তুরিন থেকে লিসবনের পথে সিআর সেভেন উড়াল দেওয়ার পরই উল্টে যায় পাশার দান।
গন্তব্যটা চার মাইল দূরত্বের ইতিহাদ না হয়ে ওল্ড ট্রাফোর্ড হওয়ার পেছনে ম্যান ইউ ম্যানেজমেন্ট আর বর্তমান কোচ ওলে গুনার শোলশারের উৎসাহী ভূমিকাও মুখ্য। যিনি নিজেও খেলেছেন রোনালদোর সাথে। নতুন ক্লাবে রোনালদোর বেতন ২৫ মিলিয়ন পাউন্ড। আর ট্রান্সফার ফি ১৩ মিলিয়ন পাউন্ড।
তবে সবচেয়ে বড় ভূমিকাটা না থেকেও রেখেছেন স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন। দ্য বসের ফোন দ্বিতীয়বার ভাবতে বাধ্য করেছিলো রোনালদোকে। আরেকজনের কথা না বললেই নয়। ড্যারেন ফ্লেচার। রেড ডেভিলদের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর। এই ইংলিশম্যানও ছিলেন রোনালদোর সাবেক সতীর্থ।
৩৬ বছর বয়স সেখানে কোনো বাধা নয়। তার ফিটনেস আর গোলকরার নেশা, সাফল্য ক্ষুধা- ম্যান ইউর তরুণ দলকে এক করতে একটুও ভাবায়নি।
য়্যুভেন্তাস ছেড়ে আসার পেছনে সেটাও একটা কারণ। নিজে তিন মৌসুমে ১০১ গোল করলেও, পাচ্ছিলেন না কাঙ্ক্ষিত ট্রফির ছোঁয়া। নিজের ব্যালন ডি অর আর দি বেস্ট সঙ্গে ক্লাবের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ আর সিরি আ ট্রফিটাও দূরে চলে যাচ্ছিল। সঙ্গে করোনার ক্ষতি ভালই নাড়া দিয়েছে ইতালিয়ান দলটিকে। তাই এক অর্থে মন উঠে গিয়েছিলো পর্তুগিজ যুবরাজের।
ইংল্যান্ড, ম্যানচেস্টার সবই চেনা রোনালদোর। তবে কি নিজেও একটু স্বস্তি পেয়েছেন ক্লাবটা পুরনো ইউনাইটেড হওয়ায়?