দীর্ঘ নয় বছর পর ঢাকার ধামরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে আগামী তিন বছরের জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মালেক সভাপতি, সাখাওয়াত হোসেন সাকু জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি, গোলাম কবির মোল্লা সাধারণ সম্পাদক ও খালেদ মাসুদ খান লাল্টুকে ১নং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
বুধবার বিকালে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হার্ডিঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে আয়োজিত উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।
উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বেনজীর আহমেদ এমপি।
প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক আইনমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক সংসদ সদস্য মির্জা আজম এবং দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান প্রমুখ।
প্রধান বক্তা ছিলেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান।
এর আগে বেলা ১১টায় ধামরাই হার্ডিঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের মাঠে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য বেনজির আহমেদ। সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শেষে বিকালে কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর বেনজির আহমেদ সভাপতিত্ব গ্রহণ করেন।
পরে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদ্য বিদায়ী সভাপতি এম এ মালেককে আবার সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করেন।
এছাড়া সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র গোলাম কবির মোল্লা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদ্য বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সাকু, উপজেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খালেদ মাসুদ খান লাল্টু ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন সিরাজের নাম আসে।
এরপর তাদের মধ্যে সমঝোতার জন্য কিছুটা সময় দেওয়া হয়। তবে তারা সমঝোতায় ব্যর্থ হওয়ায় কেন্দ্রের শীর্ষ নেতারা আলোচনা করে গোলাম কবির মোল্লাকে সাধারণ সম্পাদক, সাখাওয়াত হোসেন সাকুকে জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ও খালেদ মাসুদ খান লাল্টুকে ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা দেন।
এছাড়া অন্যজনকে জেলা কমিটিতে পদ দেওয়ার ঘোষণা দেন। এরপরেই সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে এম এ মালেককে সভাপতি ও সাখাওয়াত হোসেন সাকুকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ওই সময় সংসদ সদস্য ছিলেন বেনজীর আহমেদ। পরের বছর দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঋণ খেলাপি হওয়ায় প্রার্থিতা থেকে বাদ পড়েন তিনি। ওই সময় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ মালেক। এরপর থেকেই দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে বিরোধিতা শুরু হয়। এরপর কয়েকবার কমিটি গঠনের চেষ্টা হলেও তা ভেস্তে যায়। অবশেষে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে নতুন কমিটি ঘোষণা হলো।