ভোর রাত থেকেই প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ। শনিবার (২৫ জুন) সকালে আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে মিছিলে ব্যানার, প্লেকার্ডসহ সভায় যোগ দিচ্ছেন। এ সময় পদ্মা সেতুর কাঠালবাড়ী সংযোগ সড়কের পর থেকে পায়ে হেঁটে আসতে হচ্ছে। কোন যানবাহনকে আসতে দিচ্ছেন না প্রশাসন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ৫টা। প্রায় হাজারখানিক মানুষের জটলা। সবার মুখে শ্লোগানে পুরো এলাকাই উৎসব চলছে। কোনভাবেই ঠেকিয়ে রাখা যাচ্ছে না তদের। র্যাব, পুলিশ হিমশিম খাচ্ছে তাদের ঠেকাতে। সকাল ৬টার পর খুলে দেয়া হয় জনসভাস্থলের জমায়েতের স্থান। দীর্ঘ লাইনে ম্যাটার দিয়ে চেক করে ঢুকতে দিচ্ছেন তাদের। অন্যদিকে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জেলা থেকে বড় বড় লঞ্চযোগে সাধারণ মানুষ আসছে সভায় যোগ দিতে। সকল ৭টার মধ্যেই অর্ধেক এলাকায় পূর্ণ হয়ে গেছে।
এদিকে পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে মাদারীপুরের ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী বাংলাবাজার ঘাটে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে। পুলিশ, র্যাবসহ বিপুল সংখ্যক আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। পুরো ৮ কিলোমিটার এলাকায় পুরোটাই সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে। বসানো হয়েছে ২৬টি বড় পর্দার মনিটর। ৭ শতাধিক মাইকে সাউন্ড দেয়া হচ্ছে। ২০টি অস্থায়ী পল্টুনে লঞ্চ থেকে নামার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
সকাল সাড়ে ৬টায় বরিশাল থেকে আসা রমিজউদ্দিন বলেন, রাত ১টায় লঞ্চে উঠছি। সারা রাত নাম গান গেলে সকালে ঘাটে নামছি। আমাদের এটা ঈদের আনন্দের চেয়ে কোন অংশেই কম নয়। বরং আমাদের মুক্তির দিন আজ। অনেক কষ্ট আর ভোগান্তি থেকে বাঁচার দিন। যে কারণে আমাদের ফুর্তি কোন অংশেই কম নয়। আমার প্রায় বরিশাল থেকে এক লাখ মানুষ সভায় আসবো।’
মাদারীপুর পৌর শহর থেকে আসা নান্নু মুন্সি বলেন, ভোর রাতে রওনা দিয়েছি। সকালে আলো ফোটার আগেই চলে আসছি। প্রায় ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার পায়ে হেটে আসতে হয়েছে। কোন যানবাহন আসতে দেয়া হয় না। এখন মাঠে আসছি, এতেই খুশি আমরা। প্রধানমন্ত্রী আমাদের জন্যে যে উপহার দিয়েছে, এতেই আমাদের সামান্য কষ্ট কোন কষ্টই না।
মাদারীপুরের পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, মূল মঞ্চের সামনে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাবসহ অন্তত ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সব ধরণের নিরাপত্তার ব্যবস্থা আমরা করেছি। এখন ভালো ভালো অনুষ্ঠানটা শেষ হলেই আমাদের শান্তি। পুলিশের অন্তত ১৫ হাজার কর্মী সভায় নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে। এছাড়ার র্যাবের ২ হাজারসহ সব মিলিয়ে ৪০ হাজার প্রশাসনের কর্মীরা মাঠে রয়েছে।’