পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় পরকীয়া প্রেমের জেরে স্ত্রী শাম্মী আক্তারকে (৩৮) হত্যার অভিযোগে স্বামী শেখ সিরাজুস সালেকিনকে গ্রেপ্তার করেছেন থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত স্বামী সিরাজুস সালেকিন লহ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলা দরবেশপুর গ্রামের মৃত শেখ মোহাম্মাদ আলীর ছেলে। তিনি ঢাকায় ব্যবসা করতেন।
নিহত শাম্মী আক্তার বাগেরহাট জেলার শরনখোলা উপজেলার রাজাপুর গ্রামের মৃত আলতাফ খানের মেয়ে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে সাইম আলম বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।
মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুল ইসলাম বাদল জানান, নিহত শাম্মী আক্তারকে হত্যার দায়ে তার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোমবার (০৮ আগস্ট) বিকেলে থানায় নিয়ে আসা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তিনি নিহতের ভাইয়ের স্ত্রী আয়শা আক্তারের রোজির সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের জেরে স্ত্রীকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তাই ওই পরকীয়া প্রেমিকা আয়শা আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। আয়শা আক্তার রোজি শহরের কেএম লতিফ ইনস্টিটিউটের শিক্ষক এবং নিহতের ভাইয়ের স্ত্রী।
নিহতের পরিবার, থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত শাম্মী আক্তারের প্রথম স্বামী মারা যাওয়ার পর গত দু’বছর আগে প্রেমের পরিচয়ে সিরাজুল সালেকিনের সঙ্গে বিয়ে হয়। প্রথম স্বামীর ঘরে দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে। তাদের নিয়ে থানা পাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। আর শাম্মী আক্তার গত দশ বছর ধরে মঠবাড়িয়া কেএম লতীফ সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় ‘শাম্মী বিউটি পার্লার’ নামের একটি পার্লারের ব্যবসা করে আসছিলেন। সোমবার (৮ আগস্ট) ছিল তাদের বিবাহবার্ষিকী। সে উপলক্ষে স্বামী সালেকিন ঢাকা থেকে মঠবাড়িয়া আসেন। প্রতিদিনের মত রোববার (০৭ আগস্ট) রাতে তিনি স্বামীকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। সোমবার (০৮ আগস্ট) ভোরে স্বামী সালেকিন স্ত্রী শাম্মীকে বিছানায় অজ্ঞান অবস্থায় পরে থাকতে দেখার কথা বলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক শাম্মীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ওই গৃহবধূর মৃত্যুতে থানা পুলিশসহ স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হলে পুলিশ নিহতের স্বামী ও ছেলে সাইমকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।