সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিষ্ফোরণে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় কমপক্ষে তিন শতাধিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ডিপোর কর্মীদের পাশাপাশি পুলিশ সদস্য, আনসার ও আগুন নিভাতে আসা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা রয়েছেন । অগুন নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ১৮ টি ইউনিট । রাত ২ টায় রিপোর্টটি লেখা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি।
এদিকে আহতদের মধ্যে শতাধিক লোককে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ভর্তি করানো হয়েছে। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হাসপাতালে তিলধারণের জায়গা নেই। একটু পরপর সাইরেন বাজিয়ে আসছে এম্বুলেন্স । আহতদের পাশাপাশি তাদের স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতালের চারপাশ।
জানা যায়, এই ঘটনায় চট্টগ্রামের সকল চিকিৎসকসহ চিকিৎসা সেবায় জড়িততে স্ব স্ব কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. ইলিয়াছ চৌধুরী। তিনি নিজেও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উপস্থিত হয়েছেন। চমেক পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক নুরুল আলম আশেক গণমাধ্যমকে বলেন, সীতাকুণ্ডে বিএম ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক মানুষকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছে।
এদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হাসপাতালে প্রচুর রক্তের প্রয়োজন হচ্ছে।রক্তাদাতারা বিভিন্ন জায়গা থেকে ছুটে আসছে।সবমিলিয়ে হাসপাতাল অনেকটা লোকারণ্য হয়ে উঠেছে।
নিহতদের একজন বাঁশখালীর ছনুয়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ মুমিনুল ইসলাম। তার ভাই মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, আমার ভাই বিএম কনটেইনার ডিপোতে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।বিষ্ফোরণে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়। আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম লোক ছিলো সে।
এদিকে ডিপো মালিকদের সংগঠন বিকডা জানিয়েছে, ওই ডিপোতে হাইড্রোজেন পার অক্সাইডের একটি চালান ছিল।সেখান থেকেই রাত ১০ টার দিকে প্রথম বিষ্ফোরণ ঘটে। পরে সেখানে আগুন ধরে যায়।এই আগুন বাকি কন্টেইনারেও ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিএম ডিপোটি চট্টগ্রামের স্মার্ট গ্রুপের মালিকানাধীন। এটি দেশের ৫ম বৃহত্তম বেসরকারি কনটেইনার ডিপো। প্রতিষ্ঠানটির এমডি মুজিবুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, কি কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে কনটেইনার থেকেই আগুন ধরেছে বলে ধারণা করছি। নৈতিকতা ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে হতাহতদের পাশে থাকবো।