আপনারা অনেকেই জানেন যে ইতালি তে কয়েক বছর অন্তর অন্তর Amnesty International ও ইতালিয়ান ইমিগ্রেশনের অধীনে ইতালিতে অবস্থিত অবৈধ অভিবাসীদের বৈধকরনের জন্য ডিক্লেয়ার দিয়ে থাকেন কিছু শর্তের ভিত্তিতে। যেটা একেক বছর একেক রকমের হয়ে থাকে। যেমন গতবার ডিক্লেয়ারের সময় শর্ত বেধে দেয়া হয়েছিল নির্ধারিত সময়, উদাহরন স্বরূপ বলা যায় তারা একটা টাইম বেধে দিল যে আপনাকে ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ইতালিতে প্রবেশ করেছেন এমন সব প্রমানাধি দেখাতে হবে।যদি আপনি এমনেস্টী ইন্টারন্যাশনাল এর অধীনে ইতালিতে পেপারস নিতে চান।
আবার যেমন ২০১২ সালে পোল্যান্ডে ও অ্যামনিস্টি ইন্টারন্যাশনাল বৈধতার ঘোষণা দিয়েছে, কিছু শর্তের ভিত্তিতে অনেকটা ইতালিয়ান শর্তের মতই। তবে পর্তুগালের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি বিষয়। আর পর্তুগালের বিষয়টা ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে একটা ডাইরেক্টটিভ বা আইন পাশ করা যার ভিত্তিতে পর্তুগাল অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ করে যাচ্ছেন ২০০৭ সালের জুলাই মাস থেকে।
পর্তুগালে ইতালির মত কোন ডালাউভাবে ডিক্লেয়ার দেয় না, আর দিবেও না। যারা উল্লেখিত শর্ত পূরণ করবে তারা সবাই পর্তুগালে বৈধ হতে পারবে যে বিষয় গুলো আজ আমি মোঃ ওয়ালী উল্লাহ আমার নিউজ পোর্টালের মাধ্যমে উপস্থাপন করছি।
পর্তুগালের মূলত ২টা আর্টিকেল এর ভিত্তিতে অভিবাসীদের বৈধতা দিচ্ছে সেটা হচ্ছে আর্টিকেল ৮৮-২ আর আর্টিকেল ৮৯-২।
৮৮-২ হচ্ছে যারা পর্তুগালের অন্যের অধীনে জব করে রেসিডেন্স পারমিট এর জন্য আবেদন করবে, আর ৮৯-২ হচ্ছে সেলফ এপ্লয়েড যারা তাদের জন্য। ৮৮-২ তুলনামূলক সহজ হওয়ায়ে সবাই এই আর্টিকেলই পেপার এর আবেদন করে।
যাই হোক এবার নিচের শর্তাবলী গুলো ভালো করে লক্ষ্য করুন এবং এই শর্তাবলী পূরনের ফলে আপনারা যে কেউ পর্তুগালে বৈধ হতে পারবেন।
আপনাকে ইউরোপে বৈধভাবে কোনো সেনজেনভুক্ত দেশের ভিসা নিয়ে ইউরোপে প্রবেশ করেছেন এবং আপনি যখন পর্তুগাল যাবেন, যাবার ৩ কর্মদিবসের মধ্যে অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে আনতে হবে বা আপনি সেখানকার হোটেলে অবস্থান করেছেন সেখান থেকে লিগ্যাল এন্ট্রি ফরম ফিলআপ করে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। তার প্রমাণাদি দেখাতে হবে অর্থাৎ আপনাকে ইউরোপের সেনজেনভুক্ত যে কোন দেশের ভিসা নিয়ে ইউরোপে প্রবেশ করতে হবে। (তবে সাইপ্রাস, রোমানিয়া, বুলগেরিয়া, ইউকে, আয়ারল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া এই দেশসমূহের ভিসা বাদে)।
লিগ্যাল এন্ট্রি বলতে আপনি সরাসরি পর্তুগাল ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাইটে গিয়েছেন তার ডকুমেন্টস এবং ভেলিড ভিসা বা ভিসা কপি। সেটা এয়ারপোর্ট ইমিগ্রেশন এর মাধ্যমে করতে পারবেন বা সেনজেন অন্য কোনো দেশ থেকে গেলে সেটা হোটেল থেকে নিতে পারবেন। বর্তমান বাঙালি এরিয়ায় অনেক হোস্টেল আছে যারা ২৫/৩০ ইউরোর বিনিময়ে এটা করে দেয়। যাদের অন্য দেশের ন্যাশনাল ভিসা বা ডি ভিসা আছে তাদের জন্য বাধ্যতামূলক না তবে ঝামেলা এড়াতে করে রাখতে পারেন লিগ্যাল এন্ট্রির কাজ।
আর সেনজেন ভুক্ত দেশ থেকে আপনি পর্তুগালে বৈধভাবে প্রবেশ করেছেন- যেমন বিমানের টিকেট, মাসের টিকেট বা ট্রেনের টিকেট ইত্যাদি দেখাতে হবে (যদিও ইমিগ্রেশন থেকে আগে এইসব চাইত না কিন্তু এখন এইসব বাধ্যতামূলক লাগবে। তাই আপনার টিকেট, বোর্ডিং পাশ যত্ন সহকারে রেখে দিবেন।
২য় – পর্তুগাল প্রবেশের পর আপনাকে নিজস্ব আইডেনটিফীকেশন নাম্বার (পাসপোর্ট) দেখিয়ে ট্যাক্স অফিস থেকে ট্যাক্স কার্ড করিয়ে নিতে হবে। পর্তুগিজ ট্যাক্স নাম্বার। এটাকে NIF বলা হয়ে থাকে। -Número de Identificação Fiscal (NIF) (খরচ পড়বে ১০.২০ ইউরো)।

তবে সাথে পর্তুগালে যেকোনো বৈধ ব্যাক্তির রেফারেন্স লাগবে অর্থাৎ ট্যাক্স কার্ড করতে যাদের পর্তুগাল পার্মানেন্ট রেসিডেন্স কার্ড আছে অথবা পাসপোর্টধারী তাকে সাথে যেতে হবে। আগে পর্তুগালে ট্যাক্স কার্ড করতে যে কোনো রেসিডেন্স ধারী ব্যাক্তি গেলেই কাজ হয়ে যেত কিন্তু এখন পার্মানেন্ট রেসিডেন্সধারী ব্যাক্তি বা যার পর্তুগীজ পাসপোর্ট আছে এমন ব্যাক্তি আপনার সাথে নিয়ে যেতে হবে। অন্যথায় একজন উকিলের সাহায্য নিতে পারেন যার জন্য আপনাকে ১০০-১৫০ ইউরোর মতো গুনতে হতে পারে। এটা করতে পর্তুগালের যে কোন ট্যাক্স অফিসে যেয়ে করতে পারবেন।
৩য় – মেইন প্রসিডিউর হিসাবে পর্তুগালে আপনাকে বৈধ ভাবে প্রবেশের পর, ট্যাক্স কার্ড করার পর জব/কাজের কন্ট্রাক্ট দেখাতে হবে মিনিমাম ৬ মাসের। আর পর্তুগালে এই জব কন্ট্রাক্ট মেনেজ করা অনেকটা দুস্কর বলা চলে। তবে বর্তমানে জব মেনেজ করা আগের তুলনায় একটু সহজ। নরমালি কাগজের জন্য এই জব কন্ট্রাক্ট টাকা দিয়ে বাঙালি, পাকিস্তানি, ইন্ডিয়ান, আফ্রিকানদের কাছ থেকে কিনতে হয়। সেক্ষেত্রে টাকার পরিমান ১৫০০, ২০০০ থেকে ২৫০০ ইউরো পর্যন্ত হয়ে থাকে (ক্ষেত্রবিশেষে কম বেশি হয়ে থাকে)। যদি আপনার কোন বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় স্বজন আপনাকে হেল্প করে জব কন্ট্রাক্টে তাহলে এই টাকার খরচ থেকে বেঁচে যাবেন নিঃসন্দেহে। জব কন্ট্রাক্ট হাতে পাবার পর প্রধান কাজ হলো সোশ্যাল সিকিউরিটি নাম্বারের জন্য আবেদন করা।
৪র্থ – পর্তুগিজ Social security number যা সংক্ষেপে NISS বলা হয়ে থাকে (.Número de Identificação de Segurança Social -NISS )। এটা আপনি যখন পর্তুগালে কোন মালিকের অধীনে কাজ করবেন বা যেকোনো দেশের মালিকের কাছ থেকে কাজের কন্ট্রাক্ট করালে এই নাম্বার এর জন্য কেবল আবেদন করতে পারবেন . সোশ্যাল সিকিউরিটি নাম্বার আবেদনের পর ৩০-৬০ দিন সময় লাগে আসতে। ক্ষেত্রভেদে কারো কারো বেশি সময় লাগে।

Social security Number আবেদনের পর আপনার বৈধতার মূল পর্ব শুরু। আপনার যাবতীয় ডকুমেন্টস সহ পর্তুগালের ইমিগ্রেশন পোর্টালে আপনার ফাইল এন্ট্রি করতে হবে। সেখানে আপনার ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ক্রিয়েট হবে।
সেইফ এন্ট্রির জন্য কি কি ডকুমেন্টস প্রয়োজন ?
https://sapa.sef.pt এটা হলো পর্তুগিজ ফরেইনার এন্ড বর্ডার সার্ভিসের ইমিগ্রেশন পোর্টাল যেখানে শুধু নতুন আবেদনকারি যারা তাদের ফাইল আপলোড করা হয়।
আপনার ভ্যালিড পাসপোর্ট
সেনজেন ভিসার কপি
পর্তুগালে লিগ্যাল এন্ট্রি ডকুমেন্টস
পর্তুগালের ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার .
পর্তুগালের প্রফ অফ এড্রেস
জব কন্টাক্ট
সোশ্যাল সিকিউরিটি নাম্বার (যদি আবেদনের পরে অনেক লম্বা সময় লেগে যায় এবং সোশ্যাল আসতে দেরি হয় তাহলে সোশ্যাল সিকিউরিটি নাম্বার দনের অফিস থেকে যে স্লিপটি দিবে সেটা দিয়ে ও সেইফ এন্ট্রি করতে পারবেন।
বাংলাদেশের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট।
যদি ইউরোপের অন্য কোন দেশে ১২ মাসের অধিক থেকে থাকেন সে দেশের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (অপশনাল)।
তারপর অধীর আগ্রহে অপেক্ষার পালা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আপনার ফাইল যাচাই বাচাই করে ৯০ দিনের মধ্যে ই মেইল করবে তাদের যেকোনো সার্ভিস পয়েন্টে এপয়েন্টমেন্ট নেয়ার জন্য। বর্তমান সময়ে ইমিগ্রান্টস খুব বেশি পরিমান আবেদন জমা করায় তাদের সার্ভিস কিছুটা মন্থর গতিতে চলছে। এপয়েন্টমেন্ট পেতে অনেক লম্বা সময় ৩-৬ মাস অপেক্ষা করতে হবে। এপয়েন্টমেন্টর মেইল আসলে আপনি ওয়েবসাইটে আপনার ইউজার আইডি আর পাসওয়ার্ড দিয়ে লগ ইন করে ডেট নিতে পারবেন।
৫ম : জব কন্ট্রাক্ট হাতে পাবার পর প্রত্যেক মাসে আপনাকে নিজের পকেট থেকে ২১০ ইউরো (মিনিমাম সেলারি ৬০০ ইউরো এর জন্য এই ট্যাক্স ,তবে সেলারি বেশি দেখালে ট্যাক্স এর পরিমান বেশি হবে) করে গুনতে হবে। নরমাল হিসাব হল আপনাকে পেপারস হবার আগ পর্যন্ত ট্যাক্স পে করতে হবে। আপনি শুধুমাত্র পেপারস পাবার জন্য কাগজে কলমে জব দেখাবেন অরিজিনালি আপনি নিজের পকেট থেকে সব টাকা খরচ করছেন। পর্তুগীজদের অধীনে জব পেলে এই সব টাকা সেভ হয়ে যাবে কিন্তু দুঃখের বিষয় পর্তুগালে অবৈধ অবস্থায় স্পেশাল কোন লিঙ্ক ছাড়া প্রাথমিক অবস্থায় পর্তুগীজ জব পাবেন না, আর ভাষাগত একটা প্রবলেম তো থেকেই যায়।
নরমালি যারা সেনজেন ভুক্ত দেশের ভিসা নিয়ে পর্তুগাল প্রবেশ করবে তারা মিনিমাম ৬ টা ট্যাক্স দেয়ার পর ইমিগ্রেশনে রেসিডেন্স পারমিট এর জন্য আবেদন করতে পারবে। সব ডকুমেন্টস ঠিক থাকলে কপাল অতিশয় ভাল হলে ৬ টা ট্যাক্স দিয়েই রেসিডেন্স পারমিট পেয়ে যার তবে আবার অনেকের ক্ষেত্রে ৬ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায়।
আর যারা বিশেষ করে ভিসা ছাড়া অর্থাৎ সাদা পাসপোর্ট নিয়ে পর্তুগাল প্রবেশ করেছেন তারা ২০১৩ সালের আগে পর্যন্ত রেসিডেন্স পেতে লিগ্যালভাবে পর্তুগালে অনেক সময় লেগে যেত কিন্তু ২০১৪ সাল থেকে সেই আইনে কিছুটা পরিবর্তন এনেছে পর্তুগীজ বর্ডার অ্যান্ড ফরেইনার সার্ভিস (http://www.sef.pt/) ২০১৩ সালের আগে সাদা পাসপোর্টে এন্ট্রি যাদের পর্তুগালে তারা মিনিমাম ১৮-২৪ মাস ট্যাক্স পে করতে হত যা বর্তমানে ১২ থেকে ১৮ তে পরিবর্তন করা হয়েছে । এখন ভিসা ছাড়া যারা যারা পর্তুগালে পেপারস করতে চান তারা এই সুত্র অনুসরন করতে হবে অর্থাৎ আপনাকে মিনিমাম ১২-১৮ টি ট্যাক্স পে করে রেসিডেন্স পারমিট এর জন্য আবেদন করতে হবে।
আরও কিছু ডকুমেন্টস লাগবে সেই বিষয় গুলো এখানে আলাদা ভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হল।
বাংলাদেশী পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট। দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রলায় থেকে সত্যায়িত করে আনার পর পর্তুগিজ ভাষায় অনুবাদ করে বাংলাদেশ এম্বেসী অফ লিসবন থেকে সত্যায়িত করতে হবে। তারপর পর্তুগালের ফরেইন মিনিষ্ট্রি থেকে সত্যায়িত করতে হবে।
পর্তুগাল এর পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট + ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এর পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট আগে বাধ্যতামূলক ছিল কিন্তু ২০১৯ সালের আগস্ট মাস থেকে পর্তুগালের এবং ইউরোপিয়ান ক্রিমিনাল রেকর্ড সার্টিফিকেট (Contumacia) দেয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
আপনি যদি অন্য কোন দেশে ৬ মাসের বেশি অবস্থা করেন যেমন লন্ডন, সাইপ্রাস আয়ারল্যান্ড রোমানিয়া এই সকল দেশে ছাত্র ছিলেন পরে সেনজেন ভিসা নিয়ে ইউরোপ ডুকেছেন তাদের ক্ষেত্রে যে যেই দেশে অবস্থা করেছেন ওই ওই দেশের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট লাগবে বাধ্যতামূলক। কিংবা ইতালিয়ান ভিসা নিয়ে ইতালি এসেছেন ৬ মাসের ও বেশি সময় ইতালি কাটিয়েছেন তাদের ক্ষেত্রেও ইতালিয়ান পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট লাগবে। অন্য কোন ভাষায় হলে সেটা কে ট্রান্সলেট করে শুধু নোটারি করতে হবে।
বর্তমানে ফরেইন কান্ট্রির যাবতীয় ডকুমেন্টস পর্তুগালের নোটারি ট্রান্সলেশন এর পর পর্তুগালের ফরেইন মিনিষ্ট্রি থেকে সত্যায়িত করতে হয় , স আপনি বাংলাদেশ সহ অন্য কোন দেশের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটে পর্তুগালে ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত কোনো ব্যাবহার করতে চাইলে অবশ্যই পর্তুগালের ফরেইন মিনিষ্ট্রি করা থাকতে হবে।
আপনি যে ৬ টি ট্যাক্স প্রদান করেছেন সেটার সার্টিফিকেট যা Social security office থেকে আপনি যতবার খুশি বিনা পয়সায় তুলতে পারবেন। তবে সেটার জন্য লম্বা লাইন দাড়াতে হবে।
Proof of address আপনি যে মিউনিসিপালিটি তে থাকেন সেখান থেকে এই সার্টিফিকেট টা নিতে হবে . junta de freguesia এই অফিস থেকে নিতে হবে। আপনি যে এরিয়াতে থাকেন ওই খানকার junta de ফ্রেগুসিয়া থেকে নিতে ১০ ইউরো খরচ পড়বে। তবে ৩ দিন আগে আবেদন করতে হবে। এক দিনে ও নিতে পারেন তবে ৩০ ইউরো চার্জ দিতে হবে।
শেষ করার আগে পর্তুগাল রেসিডেন্স পারমিট পেতে হলে কত খরচ হবে তার একটা ছক বা হিসাব দিয়ে দেই সবার সুবিধার্থে।
ট্যাক্স কার্ড করতে – ১০.২০ ইউরো অফিসিয়াল ফিস(উকিল এর সাহায্য নিলে ১০০-১৫০ ইউরো)
জব কন্ট্রাক্ট – ১৫০০-২৫০০ ইউরো (বর্তমানে অনেক জবের সুযোগ আছে তাই কাজ খুঁজে পেলে টাকা তা বেঁচে যাবে,
ট্যাক্স প্রতি মাসে – ২১০ ইউরো (মিনিমাম ৬-১০ মাস পে করতে হবে ধরে রাখেন যাদের পাসপোর্টে ভিসা রয়েছে) তবে সেটা যতদিন না আপনি অফিসিয়াল ডেট পাচ্ছেন ফিঙ্গার প্রিন্ট এর তত দিন পে করে যেতে হবে।
ইমিগ্রেশন ফি – ৫৩০ ইউরো, যেদিন ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেবে রেসিডেন্স পারমিটের জন্য সেদিন পে করতে হবে।
অ্যাডভোকেট এর ফি -৩০০-৬০০ ইউরো। আপনি নিজের যদি মনে হয় উকিলের দরকার নেই টুকটাক ভাষা পারেন তাহলে উকিল ছাড়াও যেতে পারেন।
আর যাদের ভিসা ভ্যালিড থাকা অবস্থায় পর্তুগাল যাননি বা যাদের কোনো ভিসাই নেই পাসপোর্ট একেবারে সাদা পাসপোর্ট তারা কি রেসিডেন্স পারমিট এর জন্য আবেদন করতে পারবে?
উত্তর হ্যাঁ পারবেন, তবে আপনার জন্য অনেক লম্বা সময় পর্তুগাল থাকা লাগবে। অফিসিয়াল আইনে আপনাকে ১২ মাসের কন্টিনিউ ট্যাক্স পে করেছেন এমন প্রমান দেখতে হবে। ১২ মাস ট্যাক্স এবং আরো ৬ মাস ধরে নেন আপনার এপয়েন্টমেন্ট পেতে সময় লাগবে। তাহলে আপনাকে মোটামুটি ২ বছরের প্রিপারেশন নিয়ে এগোতে হবে।
আরও একটু বিস্তারিত বললে – বর্তমান সময়ে যাদের লিগ্যাল এন্ট্রি নেই ইউরোপের অর্থাৎ ইউরোপে ভিসা নিয়ে প্রবেশ করেননি কিংবা পাসপোর্ট কোন কারনে হারিয়ে ফেলেছেন তারাও পর্তুগাল গিয়ে পেপারস এর জন্য আবেদন করতে পারবেন । ফলস্বরূপ ব্রিটেনে, ফ্রান্সে, ইতালিতে, গ্রিসে অবৈধ থাকা বেশির ভাগই পর্তুগালে পাড়ি জমাচ্ছেন ।
এখন প্রশ্ন হল কত সময় লাগতে পারে সাদা/ব্ল্যাংক পাসপোর্ট দিয়ে আবেদন করলে? যারা ভিসা নিয়ে প্রবেশ করবে তাদের জন্য মিনিমাম ১৮০ দিন অর্থাৎ ৬ মাস ট্যাক্স পে করার পর রেসিডেন্স পারমিট এর জন্য আবেদনের রুলস আছে। আর সাদা পাসপোর্ট এর ক্ষেত্রে মিনিমাম ৩৬৫ দিন অর্থাৎ ১২ মাস ট্যাক্স প্রদান করে রেসিডেন্স পারমিট এর জন্য আবেদনের রুলস।
ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকে আসা ইমিগ্রান্টদের চাপের কারনে বর্তমানে সাদা পাসপোর্ট আর ভিসা নিয়ে এন্ট্রি করা মানুষের সমান ট্যাক্স দিয়ে আবেদন করতে হচ্ছে । আগে একটা সময় ছিল ফাইল জমা দেয়ার ১ মাসের মধ্যে সাক্ষাতের তারিখ পাওয়া যেত কিন্তু এখন মিনিমাম আপনাকে ৬-১০ মাস অপেক্ষা করা লাগবে। কিন্তু পেপারস পাবেন যদি আপনার মালিকের / যে কোম্পানীর আন্ডারে কাজ করেন সেই মালিক বা কোম্পানীর সব ঠিক থাকে। এখন প্রশ্ন হল সাক্ষাতের তারিখ পেলে আপনার কি কি ডকুমেন্টস লাগবে?
মালিক পক্ষের ডকুমেন্টস –
১। ডিক্লেরেশন মালিক/ কোম্পানি থেকে যে আপনি এখনও জব করছেন । (বাধ্যতামূলক)
এই ডকুমেন্টস আপনার নিজের সংগ্রহ করতে হবে :
আপনার অরিজিনাল পাসপোর্ট কপি।
পর্তুগালে লিগ্যাল এন্ট্রির প্রমাণাদি।
জব কন্ট্রাক্ট।
আপনার লাস্ট ৩ মাসের সেলারি স্লিপ।
পর্তুগীজ ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার ।
পর্তুগীজ সোশ্যাল সিকিউরিটি নাম্বার ।
পর্তুগালের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (বাধ্যতামূলক না)
বাংলাদেশের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট।
যে সকল দেশের ৬ মাসের বেশি ছিলেন বা ভিসার মেয়াদ ১২ মাসের বেশি সেই সকল দেশের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট।
পর্তুগালের মিউনিসিপাল থেকে বর্তমানে যে জায়গায় অবস্থান করতেছেন তার প্রমানাদি – Attestado de Junta Freguesia – প্রফ অফ অ্যাড্রেস বলে ইংলিশে ।
ইমিগ্রেশন অথোরিটির দেয়ার পুরন করা আবেদন ফর্ম ।
সোশ্যাল সিকিউরিটি থেকে ডিক্লেয়ারেশন কত টা ট্যাক্স পে করেছেন , এটা আপাতত না নিলে ও চলে যেহেতু তারা অনলাইনে দেখতে পারে।
সব ডকুমেন্টস যাচাই বাছাই করে যদি আপনার ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে নেয় ইমিগ্রেশন অথোরিটি তাহলে আপনাকে ৩-৪ সপ্তাহের মধ্যে রেসিডেন্স কার্ড বাসায় পোস্ট করে সেন্ড করবে।
প্রথম কার্ড ১ বছর মেয়াদি পাবেন, কার্ড রিনিউ করার পরে ২ বছর মেয়াদ থাকে, এইভাবে সর্বমোট ৫ বছর থাকার পর আপনি পর্তুগালের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন যদি আপনার পর্তুগিজ ভাষায় দক্ষতার সার্টিফিকেটে থাকে।
রেসিডেন্ট পারমিট পেলে আপনি আপনার পরিবার আনতে পারবেন।
পর্তুগালে পেপার্স করতে কেমন টাকা লাগবে ? এটার উত্তর দেয়া একটু ক্রিটিক্যাল। তবে যারা পর্তুগাল যেয়ে জব মেনেজ করে নিতে পারবেন তাদের মূলত কোনো টাকা পয়সা খরচ হবে না আর যারা জব টাকার বিনিময়ে দেখবেন এবং নিজে প্রতি মাসে ২১০ ইউরো ট্যাক্স পে করবেন তাদের জন্য খরচের পরিমান অনেক বেশি হবে সেটা বুঝতেই পারছেন।
ধরুন কন্ট্রাক্ট বাবদ ১৫০০ ইউরো করে দিলেন আর ৮-১০ মাস ট্যাক্স দিলেন ২১০ ইউরো প্রতি মাসে। তাহলে খরচ কেমন হবে হিসাব করুন। এটা ছাড়াও উকিল বাবদ ৩০০ ইউরো এবং ইমিগ্রেশন ৫৩০ ইউরো তো আছেই। তবে যারা যাবেন নিজ দায়িত্বে একটা জব মেনেজ করে নেয়ার চেষ্টা করবেন।
পর্তুগালে ফ্যামিলি আনা যাবে কি না রেসিডেন্স পারমিট পাবার পর ?
জ্বী আপনি আপনার বউ, বাচ্চা এবং মা-বাবা (ওনাদের বয়স ৬৫ প্লাস হলে আনা সহজ) আনা যাবে। তবে বছরে ইমিগ্রেশনের বেঁধে দেয়ার নির্দিষ্ট পরিমান ইনকাম থাকতে হবে।
পর্তুগালের রেসিডেন্স দিয়ে বিজনেস করা যাবে কি না ?
জ্বী আপনি কার্ড পাবার পর যেকোনো ধরণের বিজনেসের লাইসেন্স নিতে পারবেন এবং বিজনেস ওপেন করতে পারবেন।
পর্তুগালের নাগরিকত্ব পেতে কত দিন লাগবে কার্ড পেলে ?
আপনার প্রথম কার্ড ইস্যুর তারিখ হতে ৫ বছর পর আপনি পর্তুগীজ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। যেমন আপনার নামে পর্তুগালে কোনো প্রকার ক্রিমিনাল কেইসে সাজার পরিমান ৩ বছরের বেশি হওয়া যাবে না। আপনাকে পুরো ৫ বছর লিগালি ছিলেন সেটার প্রমান এবং পর্তুগীজ ভাষায় দক্ষতার সার্টিফিকেটে (মিনিমাম A২ ) শেষ করে দেখতে হবে।
লেখক: মোঃ ওয়ালী উল্লাহ
সম্পাদক
সৃষ্টি বার্তা