সাতক্ষীরা পাটকেলঘাটায় ছোট ভাইয়ের হত্যাকারী বড় ভাই শাহজাহান মল্লিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (০৯ মার্চ) সকালে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কলারোয়া উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের খোরদো-বাটরা গ্রাম থেকে ওই মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ওই গ্রামের নির্মাণশ্রমিক আব্দুল মজিদ মল্লিক জানান, তার বড় ছেলে শাহজাহান মল্লিক রোববার রাতে বাড়ির গেটে ছোট ভাই মন্তাজ মল্লিককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় সোমবার মন্তাজের স্ত্রী পিয়া বেগম বাদী হয়ে শাহজাহানসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে পাটকেলঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। শাহজাহানকে ধরার জন্য পুলিশ তার শ্বশুরবাড়ি নগরঘাটার শুকুর আলী বিশ্বাসের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়।
তিনি বলেন, একপর্যায়ে মঙ্গলবার সকালে তিনি মোবাইল ফোনে খবর পান যে ছেলে শাহজাহান কলারোয়ার জয়নগর ইউনিয়নের খোরদো-বাটরা গ্রামের পরেশ রায় চৌধুরীর আমবাগানে গলায় ওড়না পেঁচানো ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে।
স্থানীয় সুদেব গুপ্তর স্ত্রী সুচিত্রা শীল জানান, মঙ্গলবার ভোরে পরেশ রায় চৌধুরীর আম বাগানে যেয়ে এক ব্যক্তিকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে থাকতে দেখে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে জ্ঞান ফিরলে বিষয়টি ইউপি সদস্য বজলুর রহমানকে অবহিত করেন।
জয়নগর ইউপি সদস্য বজলুর রহমান বলেন, তার কাছে খবর পেয়ে সকাল ১০টার দিকে কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর খায়রুল আলম ও খোরদো পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. তৌফিক টিপু ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করেন।
খোরদো পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. তৌফিক টিপু জানান, পরেশ রায় চৌধুরীর আম বাগান থেকে গলায় ওড়না জড়ানো শাহজাহান মল্লিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হয়। তার পরনে নীল রঙের জিন্সের প্যান্ট ছিল। গায়ে ছিল ফুলহাতা জামা। তার পকেটে থাকা মানি ব্যাগ থেকে পাওয়া ভোটার আইডি কার্ডের মাধ্যমে তাকে শনাক্ত করা হয়। সে তার ছোট ভাই মন্তাজ মল্লিক হত্যা মামলার আসামি বলে জানান ওসি।
তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। মৃত্যুর কারণ জানার চেষ্টা চলছে বলেও জানান খোরদো পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ।