চট্টগ্রামে ৬ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে করা মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় মামলার বাদীকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরে, বিভাগীয় জজ ও মহানগর স্পেশাল দায়রা জজ আশফাকুর রহমান শুনানি শেষে নুরুল আবছারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। অভিযুক্ত নুরুল আবছার চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানার দক্ষিণপাড়া ‘কোনার দোকান’ নাগর আলীর বাড়ির বদিউল আলমের ছেলে।
মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে নুরুল আবছার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে চট্টগ্রাম মহানগর বিশেষ দায়রা জজ আদালত শেখ আশফাকুর রহমান তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সরকারি কর্মকর্তাদের মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগে আবছারের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৫ মার্চ ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি ও ১৫ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ এনে পতেঙ্গা থানার সাবেক ওসিসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন নুরুল আবছার। মামলায় আসামি করা হয় পতেঙ্গা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কাশেম ভুঁইয়া, সেকেন্ড অফিসার প্রণয়, এএসআই তরুণ কান্তি শর্মা, এসআই আবদুল মোমিন, পতেঙ্গা থানার সাবেক এএসআই কামরুজ্জামান, এএসআই মিহির, ইলিয়াস, জসিম ও নুরুল হুদা।
মামলায় অভিযোগ আনা হয় পতেঙ্গা থানার সাবেক ওসিসহ আসামিরা তাকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ৩০ লাখ টাকা ঘুঘ দাবি করেন এবং ১৫ লাখ টাকা ঘুষ হিসেবে গ্রহণ করেন। এছাড়া বাকি ১৫ লাখ টাকা দিতে আসামিকে চাপ প্রয়োগ করে। আরও অভিযোগ করা হয় নুরুল আবছারের শ্যালেকের মোবাইল ফোনে কল করে টাকা দাবি করেন পতেঙ্গা থানার এএসআই তরুণ কান্তি শর্মা।
তবে আদালত বিষয়টি দুদককে অনুসন্ধান করতে দিলে দুদক অনুসন্ধান করে দেখেন মামলায় যার নম্বর দেওয়া হয়েছে সেটি মিথ্যা। এছাড়া মামলা যাদের স্বাক্ষী হিসেবে রাখা হয়েছে তাদের সন্ধানও পাওয়া যায়নি। এছাড়া নুরুল আবছারের কাছ থেকে পুলিশের ঘুষ নেওয়া ও ঘুষ দাবির বিষয়টি সত্য নয়। তদন্তে সবকিছু মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর উপসহকারী পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম বাদি হয়ে মো. নুরুল আবছারের বিরুদ্ধে ২০০৪ এর ২৮ (গ) ধারায় আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।