শেরপুর সদরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের গাড়িতে থাকা পুলিশ সদস্যের লাঠির এলোপাতাড়ি আঘাতে বাবুল মিয়া নামে এক প্রতিবন্ধী (বিশেষ চাহিদা সম্পূন্ন) মুদি দোকানি আহত হয়েছেন। আর এ ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ হয়ে সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয় জনগণ।

পুলিশের লাঠির আঘাতে রক্ত ঝড়ছে বাবুল মিয়ার।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শেরপুর পৌর শহরের কসবা এলাকার বাবুল মিয়া মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে রিকশায় করে বাড়ি ফিরছিলেন। রিকশাটি খরমপুর মোড়ে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ভ্রাম্যমাণ আদালতের একটি মাইক্রোবাস ধাক্কা দেয়। বাবুল মিয়া এর প্রতিবাদ করলে গাড়ি থেকে নেমে এসে এক পুলিশ সদস্য হাতে থাকা লোহার পাইপ (লাঠি) দিয়ে বাবুল মিয়াকে বেধড়ক পেটায়। লোহার পাইপের আঘাতে বাবুল মিয়ার মাথা ফেটে গুরুতর আহত হন। এবং রক্তক্ষরণ হতে থাকে। এ ঘটনা দেখে স্থানীয়রা ক্ষোভে ফুসে ওঠে।এর প্রতিবাদে স্থানীয়রা বিক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তা অবরোধ করেন।

পুলিশের লাঠির আঘাতে রক্ত ঝড়ছে বাবুল মিয়ার।
পরে পুলিশ এসে আহত বাবুল মিয়ার চিকিৎসা এবং দায়ী পুলিশ সদস্যের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেন তারা।
এ ব্যাপারে মানবাধিকার সংস্থা আমাদের আইন’র শেরপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. নাজমুল আলম বলেন, এটা একটা অমানবিক কাজ। একজন প্রতিবন্ধী মানুষকে এভাবে নির্দয়ভাবে পেটানো ঠিক হয়নি। তার তিনটি সন্তান নিয়ে ঈদের আনন্দ মাটি হয়ে গেল। যদি মোবাইল কোর্টের কোনো কর্মকাণ্ডে সে বাধা হতো তাহলে কোনো কথা ছিল না। মোবাইল কোর্টের গাড়ি তার গাড়িতে গিয়ে ধাক্কা দিয়েছে। এটার প্রতিবাদ করায় অন্যায়ভাবে বেধড়ক পিটিয়ে মাথা ফাটানো হয়েছে। আমরা তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

পুলিশের লাঠির আঘাতে রক্ত ঝড়ছে বাবুল মিয়ার।
জানতে চাইলে মানবাধিকার সংস্থা সৃষ্টি হিউম্যান রাইটস সোসাইটির জেলা সভাপতি আলমগীর আল আমিন বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ ঈদে যাতে মানুষ নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারে; সেই জন্য নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে বাহিনীর সদস্যরা। তাদের এ দায়িত্বপালন ও ত্যাগ সত্যিই প্রশংসা পাওয়ার দাবিদার। তবে কতিপয় দু একজন সদস্য বাহিনীর সম্মানক্ষুন্ন করে ফেলে; যা অত্যন্ত লজ্জাজনক। শেরপুরের ঘটনাটিও ব্যতিক্রম নয়; যেখানে পুলিশ জণগণের যানমালের নিরাপত্তা প্রদান, যানজট এড়ানো, মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন মহতি কাজ করে যাচ্ছে; সেখানে এই একজন সদস্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পথচারীকে মেরে রক্তাক্ত করে দিলো; এটার দায় তাকে নিতে হবে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার মোনালিসা বেগম বলেন, খরমপুর মোড়ে একজন প্রতিবন্ধী দোকানীর সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়টি আমি জেনেছি। ওই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছি।