তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষমতাসীন দল প্রশাসনকে ব্যবহার করে বিরোধী রাজনৈতিক দলের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে গণঅধিকার পরিষদ। শুক্রবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়া ও সদস্য সচিব নুরুল হক নূর এ অভিযোগ করেন।
তারা আরও অভিযোগ করেন, তারই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার গণঅধিকার পরিষদের খুলনা জেলার সদস্য সচিব হামিদুর রহমান রাজিবকে সন্ধ্যা ৭টায় তেলিগাতি এলাকা থেকে আটক করে। পরে দৌলতপুর থানাস্থ নিজ বাসভবনে নিয়ে রাত ১টা পর্যন্ত ডিবি পুলিশ তাণ্ডব চালায়। এ সময় তার বাড়িতে মাদকদ্রব্য সংরক্ষণের নাটক সাজিয়ে তাকে দায়ী করা হয়। আটকের সময় তাকে মারধর করা হয়।
বিবৃতিতে তারা বলেন, একই দিন রাত ১০টার দিকে গণঅধিকার পরিষদের বাগেরহাট জেলার সদস্য সচিব নুরুল ইসলামকে খুলনার সোনাডাঙ্গা থানাস্থ তার আবাসস্থল থেকে কোনো কারণ না দেখিয়ে স্ত্রী ও সন্তানদের সামনে থেকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তার শুক্রবার সারাদিন সোনাডাঙ্গা ও খুলনা সদর থানায় তার পরিবারের সদস্যদেরকে কোনোরূপ তথ্য না দিয়ে হয়রানি করা হয়। সন্ধ্যার দিকে তাকে বিশেষ ক্ষমতা আইনে নাশকতার মামলা দিয়ে জেল হাজতে পাঠায়। যা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও ভিত্তিহীন। পুলিশের এধরনের কর্মকাণ্ড আইন ও সংবিধান পরিপন্থী।
তারা আরও বলেন, শনিবার খুলনা বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় খুলনা ও বাগেরহাটের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারের নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের জন্য তারা কাজ করছিল। কোনোরূপ মাদক ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তারা কেউ জড়িত ছিলেন না। গণঅধিকার পরিষদের তৃণমূলের কর্মীদেরকে ভয়ভীতি দেখানো ও দলের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে একই সঙ্গে দুইটি জেলার সদস্য সচিবকে গ্রেফতার করে এ মামলা দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় খুলনা ও বাগেরহাট জেলার এ দুই নেতাকে গ্রেফতারের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তাদেরকে মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সরকারের ‘বেআইনি’ কাজে নিয়োজিত না হয়ে পেশাদারিত্ব ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।