“গতরাতে আমরা গায়ে আগুন নিয়ে এক ব্যক্তিকে তার প্রাণ বাঁচানোর জন্য দৌড়াতে দেখেছি। আমরা দ্রুত তার শরীরের আগুন নিভিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। আমরা প্রায় ৩৩টির মতো মৃতদেহ উদ্ধার করেছি। তাদের সবগুলোই পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে, চেহারা দেখে চেনার উপায় নেই।”
কথাগুলো বলছিলেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিএম কন্টেইনার ডিপোর নিরাপত্তারক্ষী মোস্তাফিজুর রহমান।
শনিবার (৪ জুন) রাতে ডিউটিতে যোগ দিতে আধা ঘণ্টা দেরি হওয়ায় প্রাণঘাতী আগুনের হাত থেকে রক্ষা পান তিনি।
তিনি জানান, ডিপোতে দিন ও রাতের শিফটে অন্তত ৫০ জন নিরাপত্তারক্ষী কাজ করেন।
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “অনেক মানুষ মারা গেছে। আমার শিফটে কাজ করে এমন অনেক সহকর্মী এখনও নিখোঁজ। তারা মারা গেছে কিনা জানি না, হয়তো তাদরে অনেকে এখনও আগুনে পুড়ছে।”
এদিকে, গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশের উদ্ধারকারী মোহাম্মদ নাজমুল হুদা জানান, তারা এখন পর্যন্ত যে সব লাশ উদ্ধার করছে সেগুলো সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।
অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মরদেহ ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের চকবাজার জোনের সহকারী কমিশনার শহিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “সব লাশের ময়নাতদন্ত করা হবে এবং ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণ করা হবে। তাদের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা কোনো লাশ হস্তান্তর করব না।”
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ডিপোতে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক থাকায় উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, শনিবার রাত ৯টার দিকে সীতাকুণ্ডে বিএম কন্টেইনার ডিপোতে বিকট বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর দ্রুত চারদিকে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে। এখন পর্যন্ত ৪৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে যৌথভাবে কাজ করছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসন, র্যা ব, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, রেড ক্রিসেন্ট, সিপিপি ও স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনের কর্মীরা। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে শঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।