আর কিছুক্ষণ পর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ও ফরচুন বরিশালের ম্যাচের মধ্যদিয়ে পর্দা নামছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) অষ্টম আসরের। নিয়মানুযায়ী ফাইনালের আগের দিন ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানে দুই অধিনায়ক ফটোসেশন করে থাকেন। কিন্তু গতকাল সেই ফটোসেশনে অনুপস্থিত ছিলেন ফরচুন বরিশালের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তার জায়গা ফটোসেশনে ইমরুলের সঙ্গে অংশ নেন সোহান। এতে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন সাকিব। পরে জানানো হয় পেটের পীড়ার কারণে তিনি আসতে অনুপস্থিত ছিলেন।
কিন্তু বিকেল পেরুতেই জানা গেলো সাকিব মূলত মাঠে না এসে গিয়েছিলেন প্রখ্যাত নির্মাতা অমিতাভ রেজার পরিচালনায় কোমল পানীয় সেভেন আপের বিজ্ঞাপণের শুটিংয়ে রাজধানীর মেরাদিয়ায়। তাই বিসিবির করোনা নিয়মানুসারে, সাকিবকে দলের সঙ্গে যোগ দিতে হলে করোনা নেগেটিভ হতে হবে। অবশেষে সেই করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ হয়েছেন সাকিব। তার নেগেটিভ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিসিবির চিকিৎসক মনজুর ইসলাম। তিনি বলেন, ‘তিনি (সাকিব) বিসিবির কোভিড প্রটোকল মেনে হোটেলে ফিরেছেন। এসে যে করোনা পরীক্ষা করেছেন তাতে নেগেটিভ হয়েছেন।’
গতকাল বিপিএলের ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানে সাকিব না থাকায় কুমিল্লার অধিনায়ক ইমরুলের সঙ্গে বরিশালের পক্ষ থেকে যোগ দেন দলটির সহ-অধিনায়ক নুরুল হাসান। ফটোসেশেনর আগে দলটির ম্যানেজার সাব্বির খান জানান, ‘পেটের সমস্যার কারণে সাকিব আসতে পারেননি।’ ফুড পয়জনিং কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, অমন কিছুই।’
তবে ফটোসেশন শেষে সোহানের বক্তব্যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। ট্রফি উন্মোচন শেষে সংবাদ সম্মেলনে সাকিবের না থাকা প্রসঙ্গে নুরুল বলেন, ‘গতকাল (বুধবার) ঐচ্ছিক অনুশীলন ছিল, সাকিব ভাই অনুশীলন করেছেন। আজ হয়তো জিম করেছেন, সে কারণে হয়তো আসতে পারেননি। তাই আমি এসেছি। আর এটা হচ্ছে পুরোটাই টিম ম্যানেজমেন্টের ব্যাপার। আমি যখন দেখেছিলাম সকালে উনি (সাকিব) জিম করছিলেন।’
একই প্রশ্নে বরিশালের কোচ খালেদ মাহমুদও পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘আসলে তেমন কিছু না। কাল অনুশীলন করেছে। আজও জিম করেছে। আমি আসলে অনুশীলনে আসার জন্য সেভাবে বলিনি। সে তার খেলাটা জানে। পুরো বিপিএল যদি দেখেন, সাকিব ব্যাট করেছেন তিন থেকে চার দিন। নিজের মতো করে কাজ করেছে। আজ বললো ভালো লাগছে না, যাব না। আমি বলেছি ঠিক আছে।’
এবারের বিপিএলে জৈব সুরক্ষাবলয় রাখেনি বিসিবি। ম্যানেজড ইভেন্ট এনভাইরনমেন্ট (এমইই) নামের করোনানীতিতে চলছে এবারের বিপিএল। ক্রিকেটারদের মানসিক স্বাস্থ্যর কথা ভেবে করোনানীতি কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। তবে জরুরি প্রয়োজনে যদি কোনো ক্রিকেটার বা সাপোর্ট স্টাফ টিম হোটেল ছাড়েন, তাকে করোনা নেগেটিভ হয়ে দলের সঙ্গে যোগ দিতে হবে।