ফসলের পোকা আক্রমণ নিয়ে দিশেহারা চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষকেরা। পোকা দমনে রাসায়নিক ছিটানোর বিপদ মাথায় রেখে জেলায় আলোর ফাঁদ ব্যবহার করছেন কৃষকরা। আলোর ফাঁদ পেতে সুফল পাচ্ছেন কৃষকেরা।
তিনটি বাঁশের লাঠি, একটি বৈদ্যুতিক লাইট, আর পানি রাখার একটি পাত্র দিয়ে তৈরি করা হয় আলোর ফাঁদ। সন্ধ্যাবেলা জমির পাশে বসানো হয় এই ফাঁদ। অন্ধকার ধানের জমি থেকে বিভিন্ন প্রজাতির পোকা ছুটে এসে আলোর ফাঁদে আটকে পড়ে। আটকে পড়া পোকার মধ্য থেকে ক্ষতিকরগুলোকে চিহ্নিত করে এসবের গায়ে সঠিক মাত্রায় কিটনাশক ও রাসায়নিক প্রয়োগ করা হয়।
কৃষকরা বলছেন, এর আগে বিভিন্ন ধরনের কিটনাশক ও রাসায়নিক ব্যবহার করে কোন সুফল পাওয়া যায়নি। কিন্তু আলোর ফাঁদের মাধ্যমে পোকা চিহ্নিত করে সঠিক মাত্রায় কিটনাশক ও রাসায়নিক ব্যবহার করে সুফল মিলছে।
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আলোর ফাঁদ পদ্ধতি কৃষকদের ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে বলে জানান কৃষি কর্মকর্তা বিনয় কুমার সরকার। তিনি বলেন, মূলত এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা তাদের ক্ষতিকর পোকাটিকে চিনিয়ে দিব। তারা যদি ঠিকমত তা চিনতে পারে এবং এর উপকারীতা যদি বুঝতে পারে তাহলে তারা খুব সহজেই তাদের ফসলকে রক্ষা করতে পারবে।
ক্ষতিকর পোকা চিহ্নিত করে কিটনাশক ব্যবহার করায় একদিকে ক্ষতির আশঙ্কা কমছে অন্যদিকে উৎপাদন খরচও কমছে বলে জানান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, মানুষ এই প্রক্রিয়া ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। এই উদ্বুদ্ধকরনের ফলে তার জমিতে যে গ্রীন প্ল্যান্ট হপার পোকার উপস্থিতি আছে কি না সেটি নিশ্চিত হচ্ছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় ১৫শ’র বেশি আলোর ফাঁদ ব্যবহার করছেন কৃষকেরা।