মাদারীপুরের বাংলাবাজার ফেরি ঘাট চলছে চরম অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে। এতে করে দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী ও তার স্বজনরা। অভিযোগ উঠেছে ঘাটের একটি সিন্ডিকেটকে উৎকোচ না দিলে ফেরিতে উঠতে পারে না রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সও।
স্থানীয়দের অভিযোগ বিআইডব্লিউটিসির বাংলাবাজার ঘাটের ব্যবস্থাপক মো. সালাউদ্দিন এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন। পণ্যবাহী ট্রাককে জিম্মি করে তাদের কাছ থেকেও সালাউদ্দিন সিন্ডিকেট অর্থ আদায় করে।
সরেজমিন বাংলাবাজর ঘাটে দেখা গেছে, শরীয়তপুরের আটং এলাকায় কয়েক ঘণ্টা আগে জন্ম নেয় একটি নবজাতক। শ্বাস কষ্টে মুমূর্ষু অবস্থায়। এমন পরিস্থিতি হওয়ায় মা আখি আক্তারকে হাসপাতালে রেখেই নবজাতকটিকে নিয়ে স্বজনরা ছুটছেন ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য। কিন্তু বাংলাবাজার ঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও হাজারো আকুতি মিনতি করেও ফেরির দেখা পাননি। উন্নতির বদলে ঘাটে দীর্ঘ সময় আটকে থেকে আরো নিস্তেজ হয়ে পড়া শিশুটিকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত শরিয়তপুরেই ফিরে যেতে বাধ্য হয় স্বজনরা।

শরীয়তপুরের আটং এলাকার নবজাতকটির খালা বলেন, কয়েক ঘণ্টা আগে শিশুটি হয়েছে। ওর মা এখনো বেডে। বাচ্চাটির শ্বাস কষ্ট হওয়ায় ওকে ঢাকা নিচ্ছিলাম। কিন্তু কোনো কিছুতেই ফেরি ছাড়লো না। বাচ্চাটি আরো নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে। তাই আবার শরীয়তপুর হাসপাতালেই ফিরে যাচ্ছি।

রোববার বাংলাবাজার ঘাটে অ্যাম্বুলেন্সের ক্ষেত্রেও এমন ‘কঠোর’ ভূমিকা দেখায় বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তারা।
নাজিম উদ্দিন নামে এক ট্রাক চালক মুঠোফোনে বলেন, কাঁচামাল নিয়ে দুইদিন ঘাটে অপেক্ষা করছি। পরে ঘাটের লোকদের অতিরিক্ত দুই হাজার টাকা দিয়ে পার হতে পেরেছি। এটা তো জুলুম। আমরা এর বিচার চাই। এদিকে মাছ, তরমুজসহ কাঁচামালে পচন ধরায় রোববার বাংলাবাজার ঘাটে বিআইডব্লিউটিসি ও পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ করেছে ভুক্তভোগীরা।
আরেক ১৫ দিনের নবজাতক রেদোয়ানের মা লাবনী বেগম বলেন, বাচ্চাটি খুব অসুস্থ তাই ঢাকায় যাচ্ছি। কিন্তু ফেরি ছাড়ছেই না। কি যে করবো এসে ভুল করলাম। রোগীরাও পার হতে পারবে না। এটা জানা ছিল না।
এসব অনিয়মের ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিসির বাংলাবাজার ঘাট ম্যানেজার মো.সালাউদ্দিনের সঙ্গে যোগযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত নম্বরে ফোন দিলে ফোনও রিসিভ করেননি। এমনকি এসএমএস করলেও জবাব দেননি।
তবে এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিসির এজিএম শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘাটে অ্যাম্বুলেন্স অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পার হওয়ার কথা। অতিরিক্ত টাকা নেয়ার সুযোগ নেই। উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ সত্য নয়। তবুও আমরা খোঁজ খবর নিয়ে দেখবো