বাদঘিস প্রদেশের রাজধানী কালা-ই-নাও শহর দখলে নেওয়ার জন্য হামলা চালিয়েছিল তালেবান। কিন্তু দখল করা তো দূরের কথা উল্টো তাদের ওই শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ‘ভাগিয়ে’ দিয়েছে আফগান ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি ফোর্স।
বুধবার বিকালে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তালেবানের সদস্যদের ভাগিয়ে দেয় বলে দাবি করেন প্রদেশের গভর্নর। খবর তোলো নিউজের।
বাদঘিস প্রদেশের গভর্নর হাসামুদ্দিন শামস বলেন, আফগান সিকিউরিটি ফোর্স কালা-ই-নাও শহরে অভিযান পরিচালনা করে শহরের বিভিন্ন অংশ থেকে তালেবানের সদস্যদের হটিয়ে দিয়েছে।
গভর্নর আরও বলেন, শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে তালেবানের সদস্যদের হটিয়ে দিতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী এগিয়ে চলেছে।
‘আমি আপনাদের এতটুকু নিশ্চিত করছি, স্পেশাল ফোর্সসহ আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য কালা-ই-নাও শহর রক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এখনও শহরের বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষ চলছে। তাদের (তালেবান) প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে তারা পরাজিতও হয়েছে’, যোগ করেন গভর্নর।
এদিকে আফগানিস্তানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ এক ফেসবুক পোস্টে তালেবানের বিরুদ্ধে লড়তে স্থানীয় কর্মকর্তারা ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে আফগানদের আশ্বস্ত করেন।
এর আগে প্রাদেশিক কাউন্সিলের প্রধান আব্দুল আজিজ আইবেক বলেছিলেন, তালেবান কালা-ই-নাও শহরের বিভিন্ন অংশে হামলা চালিয়েছে।
তিনি সেসময় বলেন, শহরে অবস্থিত পুলিশ হেডকোয়ার্টার ও সেনাঘাঁটির কাছাকাছি এলাকায় সংঘর্ষ চলছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফুটেজ থেকে ধারণা করা যায়, তালেবান শহরের কারাগারের কাছাকাছি যেতে সক্ষম হয়েছে এবং তারা বন্দিদের মুক্তি দিচ্ছে।
যদিও এ বিষয়ে স্থানীয় কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করেননি।
নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, এর আগে প্রদেশের তিনটি জেলার দখল নিয়েছে তালেবান।
কালা-ই-নাও শহরে হামলার বিষয়ে এখনও তালেবানের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি।
আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্র সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়ার প্রক্রিয়ার শুরুর পর থেকে দেশটির বিভিন্ন জেলা দখলে নিচ্ছে তালেবান। ইতোমধ্যে দেশটির ৩৪টি প্রদেশে অসংখ্য জেলা নিজেদের দখলে নিয়েছে গোষ্ঠীটি।