বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে গোলাগুলিতে আটজন নিহতের ঘটনায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ময়নাতদন্তের পর লাশ হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত চারটি লাশের ময়নাতদন্তের কাজ সম্পন্ন হয়। বাকি চারটি লাশের ময়নাতদন্তের কাজ প্রক্রিয়াধীন।
লাশগ্রহণ করতে নিহতদের স্বজনরা এখনো যোগাযোগ করেনি। আত্মীয়স্বজনরা না এলে বম জনগোষ্ঠীর সংগঠন বম অ্যাসোসিয়েশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।
এদিকে সশস্ত্র দুটি সন্ত্রাসী সংগঠনের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় আতঙ্কে গ্রাম ছেড়েছে দেড়শ পরিবার।
অপরদিকে বম জনগোষ্ঠীর আট সদস্যকে হত্যার ঘটনায় রোয়াংছড়ি, রুমা এবং থানচি উপজেলায় সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে পাহাড়ের বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠন কুকি চীন ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ)। ঘোষণা না মানলে চলন্ত গাড়িতে ব্রাশফায়ার করার হুমকিও দিয়েছে সশস্ত্র সংগঠনটি।
তবে পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম জানান, লাশের ময়নাতদন্তের কাজ প্রক্রিয়াধীন। স্বজনরা যোগাযোগ করলে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। অথবা বম জনগোষ্ঠীর সংগঠন বম অ্যাসোসিয়েশনের কাছে দেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলার কাজ চলমান রয়েছে। যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখতে সন্ত্রাসীদের হুমকির বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য জানা নেই বলে জানিয়েছেন পুলিশের এ কর্মকর্তা।
এদিকে সশস্ত্র দুটি সন্ত্রাসী সংগঠনের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে পাহাড়ে। আতঙ্ক কাটেনি রোয়াংছড়ি ও রুমা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে। ভয়ে আতঙ্কে গ্রাম ছেড়েছে খামতাং পাড়ার খেয়াং জনগোষ্ঠীর দেড়শ পরিবার।
তাদের মধ্যে রোয়াংছড়ি সদরে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে ৯০টি পরিবারের ১৭৮ জন।
অন্যদিকে রুমায় আশ্রয় নিয়েছে ৬০টি পরিবারের নারী, পুরুষ ও শিশু। আশ্রয় গ্রহণকারীদের নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী এবং পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোকে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে খাবার এবং পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার পাহাড়ের সশস্ত্র সংগঠন কেএনএর সঙ্গে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ সংস্কার) মধ্যে গোলাগুলিতে আটজনের মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন- ভানদু বম (৩৫), সাংখুম বম (৪৫), সানফির থাং বম (২২), বয়ে রেম বম (১৭), জাহিম বম (৪০), লাল লিয়ান নাং বম (৪৪) এবং লালঠা জার বম (২৭)। অপরজনের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।
#যুগান্তর