চাঁদপুর শহরের এসি ও ফ্রিজের ব্যবসায়ী মো. মাইনুল ইসলামকে কৌশলে বাসায় নষ্ট ফ্রিজ মেরামতের জন্য ডেকে নিয়ে জোর করে অশ্লীল ছবি ধারণ করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে ৪ নারীসহ প্রতারক চক্রের ৬ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে চাঁদপুর মডেল থানায় এএসপি (সদর সার্কেল) স্নিগ্ধা সরকার প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
এর আগে ভোর ৪টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতারক চক্রের ৬ সদস্যকে আটক করে মডেল থানা পুলিশ।
প্রেস ব্রিফিংকালে চাঁদপুর মডেল থানার ওসি মো. আব্দুর রশিদ, ওসি তদন্ত সুজন কান্তি বড়ুয়া, ওসি (অপারেশন) সনোয়ার হোসেন, (ইন্টিলিজেন্স) এনামুল হক উপস্থিত ছিলেন।
আটককৃত প্রতারক চক্রের সদস্যরা হলেন শহরের ট্রাকঘাট নাজমুল পাটওয়ারী বাড়ির জিহান পাটওয়ারী স্ত্রী তাসলিমা আক্তার জেরিন, চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া থানার বাঙ্গালখালীয়া এলাকার আব্দুল বারেকের মেয়ে সাদিয়া বেগম, ফরিদগঞ্জ উপজেলার সকদি রামপুর বেপারী বাড়ির মিন্টু বেপারীর স্ত্রী হাসিনা বেগম মুন্নি, হাজীগঞ্জ রাজারগাঁও প্রধানিয়া বাড়ির সিরাজুল মোস্তফার মেয়ে আয়েশা আক্তার নিপা, ফরিদগঞ্জ উপজেলার শোভান মিজি বাড়ির ছেলামত মিজির ছেলে মোস্তফা ও একই উপজেলার উত্তর গোবিন্দপুর ইউনিয়নের খান বাড়ির আরিফ খানের ছেলে কাজল খান।
এ ঘটনায় প্রতারণার শিকার মো. মাইনুল ইসলাম মঙ্গলবার চাঁদপুর মডেল থানায় বাদী হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
স্নিগ্ধা সরকার বলেন, অভিযোগকারীর বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাই। তাকে নষ্ট ফ্রিজ মেরামতের জন্য তাসলিমা আক্তার জেরিন ড্রিম হাউস নামে বাসায় নিয়ে মাইনুল ইসলামের অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। এই চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পুরুষ মানুষের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে প্রেমের সম্পর্ক করে। শহরের বিভিন্ন বাসা ভাড়া করে লোকদের ছবি তুলে প্রতারণা করে এবং টাকা আদায় করে ছবিগুলো রেখে দেয় পরবর্তীতে আবারো টাকা আদায় করার জন্য।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতারক চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন লোকজনকে কৌশলে বাসায় ডেকে এনে অশ্লীল ছবি ধারণ করে অবৈধভাবে টাকা আদায় করে। এই ধরনের একটি অপরাধের ভিত্তিতে প্রতারণার শিকার মো. মাইনুল ইসলাম অভিযোগে বলেন, তার দোকানের পাশে মোস্তফার হার্ডওয়ারের দোকান আছে। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সঙ্গে তার মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। যার ফলে মোস্তফা প্রতারক চক্রের প্রধান জেরিনের সঙ্গে যোগসাজশে মাইনুলের ক্ষতিসাধনের অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে। গত ৭ মে সকাল ১০টার দিকে মাইনুলকে প্রতারক জেরিন ফোন করে কোথায় আছে জিজ্ঞাসা করে। মাইনুল তাকে সেবা সিটি সেন্টারে আছে বলে জানায়।
পরে জেরিনের অনুরোধে দুপুরে মাইনুল প্রতারক চক্রের অপর সদস্য সাদিয়ার আলিম পাড়াস্থ ড্রিম হাউজ নামে একটি বাসায় নষ্ট ফ্রিজ মেরামত করার জন্য যায়। এ সময় তাকে ঘরে ঢুকিয়ে গায়ের শার্ট ও কোমরের বেল্ট খুলে মোবাইলের মাধ্যমে ভিডিও ধারণ করে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। যদি টাকা না দেয়া হয়, তাহলে তার স্ত্রীর কাছে ভিডিও বার্তা পাঠানোর হুমকি দেয়া হয়। পরে মাইনুল তার সঙ্গে থাকা ১০ হাজার টাকা দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।