বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেছেন, যতই দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র হোক, মাঠ থেকে এদের (বিএনপি) তাড়ানো পর্যন্ত আমরা মাঠে থাকবো। আজ বিদেশ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় ছুটির ঘণ্টা বাজানোর নির্দেশনা দিয়েছে, সে জন্য তারা আজ উঠেপড়ে লেগেছে। সন্ত্রাসী কায়দায় আন্দোলন করলে পুরস্কৃত করা হবে, সে জন্য তারা উঠেপড়ে লেগেছে।
রবিবার (৩০ জুলাই) টিএসসির মোড়ে ‘বিএনপি-জামাতের হত্যা, নৈরাজ্যের প্রতিবাদে ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসমাজের বিক্ষোভ সমাবেশ’ শীর্ষক সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
সম্প্রতি সরকারি বাঙলা কলেজের ঘটনাকে নির্দেশ করে সাদ্দাম হোসেন বলেন, আজ আমাদের ছেলেমেয়েরা চার বছরে পড়ালেখা শেষ করে চাকরিতে প্রবেশ করছে, এটি তাদের সহ্য হচ্ছে না। সবভাবে যখন ব্যর্থ, তখন তারা কীসের আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করলো?
সাদ্দাম বলেন, ব্রিটিশরা যেমন কাশিমবাজারে কুঠি গেড়ে উপনিবেশ গড়ে তোলে, সেভাবে নয়াপল্টনে কাশিমবাজার কুঠি গেড়ে বিদেশিদের ষড়যন্ত্রে জনগণের আশ্রয়ের ঠিকানা শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করতে চাচ্ছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা গণতন্ত্রের ওপর আঘাত বলে উল্লেখ করে ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, তারা (বিএনপি) একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির মতো সন্ত্রাসের স্পন্সর করে। আজ তাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে, প্রমাণিত অপরাধ তারা করেছে। তারা বাহির থেকে অস্ত্র এনে দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার শর্টটার্ম অ্যাডভান্টেজ দিলেও লংটার্ম ডিজাস্টার তৈরি করেছে। আজ যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়, এটি গণতন্ত্রের ওপর আঘাত।
ঢাবি শাখার সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন বলেন, বিএনপি সাধারণ মানুষের মাঝে ভীতি সঞ্চার করে ক্ষমতায় আসতে চায়। এর আগেও আমরা তাদের এই ধরনের কর্মকাণ্ড করতে দেখেছি। তাদের এক দফা শুধুই ফাঁকা বুলি। এর আগে ২০১৪ সালেও তাদের এই ধরনের দাবি দেখেছি। তাদের যখন সব পথ শেষ হয়ে যায়, তখন তারা জ্বালাও-পোড়াও করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
তিনি আরও বলেন, ওসামা বিন লাদেন যেভাবে ভিডিও বার্তা দিতো, তারেক রহমানও এখন সেভাবেই বক্তব্য দিচ্ছে। বিএনপিতে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কোনও প্রার্থী নেই। তাদের প্রার্থী ১০ পার্সেন্ট হিসেবে খ্যাত তারেক রহমান। বিএনপি কিছু দিন পর পর অদ্ভুত স্লোগান নিয়ে হাজির হয়, যা জনবিচ্ছিন্ন, যা সাধারণ মানুষের মাথার ওপর দিয়ে যায়।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি রাজিবুল ইসলাম বাপ্পী, মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সজল কুন্ডু, রিয়াজ মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক সাগর আহমেদ শামীমসহ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদে বিভিন্ন নেতা।