শেরপুরের নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কামাল আজাদের বিরুদ্ধে বিজয় দিবসকে জাতীয় শোক দিবস অবিহিত করে ফেইসবুকে পোস্ট দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে মহান বিজয় দিবসের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং উদ্দ্যেশ প্রণোদিত হয়ে এমন পোস্ট দিয়ে বিজয় দিবসকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপপ্রয়াস করেছে সেই অধ্যক্ষ, বলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা, আ’লীগের নেতৃবৃন্দ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নকলা থানায় একটি অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাদের মিয়া।

জানাযায়, চন্দ্রকোনা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কামাল আজাদ গত ১৪ ডিসেম্বর তার ফেইসবুক পেইজে ‘মহান বিজয় দিবস’কে ‘জাতীয় শোক দিবস’ উল্লেখ করে সকল শিক্ষক-কর্মচারীদের কলেজে উপস্থিত থাকার জন্য বলেন। বিষয়টি মূহুর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। আর এতে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। এমন কান্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বীর মুক্তিযোদ্ধারা।
এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য চন্দ্রকোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিন্টু গত ১৮ ডিসেম্বর নকলা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্থানীয় একাধিক সুশীল ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ জানান, এর আগেও তিনি অনেক উদ্ভট কথাবার্তাও বলেছেন। কিন্তু গত ১৪ তারিখে যে পোস্টটি দিয়েছেন তা উদ্দেশ্য প্রণোদিত। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাস করেন না বলেই এমন পোস্ট দিতে পেরেছেন। বিজয়ের মাসে অগ্নিকন্যা বেগম মতিয়া চৌধুরীর এলাকার কলেজে এমন স্বাধীনতা বিরোধী মনোভাবের শিক্ষকের প্রয়োজন নেই। তিনি জামায়াত বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত এবং জামায়াত বিএনপির এজেন্ডা হয়েই এমন পোস্ট করেছেন। তার শাস্তি ও চাকরিচ্যুতের দাবি জানান তারা।
জানতে চাইলে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কামাল আজাদ বলেন, আমার ভাই অসুস্থ ছিলো। তাকে দেখার জন্য ঢাকায় হাসপাতালে ছিলাম। তখন আমার ছোট ছেলেকে দিয়ে ওই পোস্টটি দেওয়াই ছিলাম। পরে ভূল দেখতে পেয়ে সংশোধন করে দিয়েছি।
মিজানুর রহমান মিন্টু বলেন, ৩০ লক্ষ শহীদ ও দু লক্ষ মা বোনের কঠিন ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় স্বাধীনতার ৫২ বছরেও রয়ে গেছে কিছু স্বাধীনতায় বিশ্বাসহীন মানুষ। যার প্রমাণ চন্দ্রকোনা কলেজের অধ্যক্ষের এমন পোস্ট। এটি সম্পূন্ন উদ্দ্যেশ প্রণোদিত হয়ে নির্বাচনের এমন আগ মূহুর্তে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্য এবং বিজয় দিবসকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই পোস্টটি দিয়েছেন। তার কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
অভিযোগ দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করে নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাদের জানান, বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নকলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিকুল ইসলাম জিন্নাহ জানান, উনার আব্বার মুক্তিযুদ্ধের সময় বিতর্কিত ভূমিকা ছিলো। কাজেই তাদের দ্বারা এরকম কাজ হতেই পারে। তবে মহান বিজয় দিবস নিয়ে এ ধরনের পোস্ট দেয়া খুবই অন্যায় হয়েছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।
কলেজের সভাপতি ও শেরপুর জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল খায়রুম বলেন, এব্যাপারে কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নিবো। দায়িত্বশীল পদে থেকে জাতীয় দিবস নিয়ে এ ধরনের কাজ কোনভাবেই মেনে নেয়া যায়না।