লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে রংপুরে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) দুপুরে নগরীর নেসকোর প্রধান অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন তারা। এ সময় শিডিউল অনুযায়ী লোডশেডিং দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হোসেন আলী বলেন, ‘আমরা প্রথমে বিক্ষোভকারীদের বাধা দিয়েছি, যাতে বিশৃঙ্খলা না হয়। পরে শান্তিপূর্ণভাবে তাদের সমাবেশ করতে বলেছি। নেসকোকে স্মারকলিপি দিয়ে বাসায় ফিরে গেছে তারা।’
এর আগে দুপুরে নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে শতাধিক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ নেসকোর কার্যালয় ঘেরাও করেন। এ অবস্থায় তাদের বাধা দেয় পুলিশ। পরে সেখানে তারা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করেছেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবিদা সুলতানা, কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থী সালমা নাসরিন, গৃহবধূ আরিফা ইসলাম ও এলাকাবাসী মমতাজ উদ্দিন প্রমুখ।
সমাবেশে তারা বলেন, চলমান বিদ্যুৎ সংকটের কথা আমরা সবাই জানি। কিন্তু নেসকো খেয়াল খুশিমতো যখন-তখন লোডশেডিং দিচ্ছে। সরকার শিডিউল অনুযায়ী লোডশেডিং দিতে বললেও তারা মানছে না। দিনের ছয়-সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করেছি। আমাদের দাবি, শিডিউল অনুযায়ী লোডশেডিং দিতে হবে।
সমাবেশ শেষে নেসকোর রংপুর অফিসের প্রধান প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। স্মারকলিপি গ্রহণ করে তিনি বলেন, ‘রংপুর বিভাগে বিদ্যুতের চাহিদা প্রতিদিন ৯০০ থেকে সাড়ে ৯০০ মেগাওয়াট। আমরা পাচ্ছি সর্বোচ্চ সাড়ে ৫০০ মেগাওয়াট। এজন্য ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার পৌনে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া গেছে। ফলে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। কিন্তু শিডিউল ঠিক রাখতে পারছি না আমরা। এজন্য সমস্যা তৈরি হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পেলে আমরা ঠিকমতো সরবরাহ দিতে পারবো না।’