ads
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: তারেক রহমান নোয়াখালী: হাজতখানাকে বিয়ে বাড়ি বানালেন দুই আ.লীগ নেতা! মিউজিক্যাল ফিল্মে সুনেরাহ পিএসসির সাবেক গাড়িচালক আবেদ আলীর ছেলে সিয়াম গ্রেপ্তার বাংলাদেশের পরিবর্তনে গনভোটে হ্যাঁ ভোট জরুরি: সাখাওয়াত হোসেন ফ্যাসিস্ট আমলে বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতি: লুটপাট ভয়াবহ আদানির চুক্তি রাষ্ট্রবিরোধী শিক্ষিকাকে গলা কেটে হত্যাচেষ্টা, সাবেক স্বামী গ্রেফতার বিসিসির সাবেক মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা সোনারগাঁয়ে যুবলীগের নেতা-নেত্রী গ্রেপ্তার জকসু নির্বাচন: ভোট গণনা স্থগিত হওয়ার পর নিয়ন্ত্রণ কক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ

বিরল রোগে আক্রান্ত আশামনি

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৩
  • ৩৯ বার পঠিত


জন্মের পর থেকেই বিরল এক চর্মরোগে আক্রান্ত আশামনি (১০)। তার পুরো শরীরের চামড়ার ওপর বিশেষ শক্ত আবরণের স্তর পড়ে গেছে। এ যেন মানবশরীরে রাস্তার পিচ ঢেলে দেওয়ার মতো অবস্থা। আর এমন যন্ত্রণা নিয়েই দিন পার করছে ছোট এই মেয়েটি। রিকশাচালক বাবার আয়ে কোনো রকম চলছে তার চিকিৎসা। তবে সবার সহযোগিতা পেলে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ পাবে আশামনি।

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার আগিয়া ইউনিয়নের মধুনাল গ্রামের দরিদ্র পরিবারের সন্তান আশামনি। তার বাবা আউলাদ হোসেন পেশায় একজন রিকশাচালক। দুই ভাই দুই বোনের মধ্যে আশামনি সবার বড়। বাবার বসতবাড়িটাই তাদের সম্বল।

আশামনির মা করুণা আক্তার বলেন, ১০ বছর আগে আশামনির জন্ম। জন্মের ১৫ দিন পরই তার পুরো শরীর লালচে হয়ে যায়। পরে শরীর থেকে পুরো চামড়া খসে পড়ে, আবার লালচে হয়, আবার খসে পড়ে। এভাবেই আশামনির বেড়ে ওঠা। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চামড়ার আবরণের ধরন পরিবর্তন হতে থাকে। সারা শরীর জুড়ে পোড়া চামড়ার মতো মোটা হয়ে আছে। এই চামড়ার চুলকানির কারণে শরীরে ফুসকা পড়ে যায়। এটা এক অসহ্য যন্ত্রণা।

আশামনির বাবা আউলাদ হোসেন বলেন, রিকশা চালিয়ে কোনো রকম মেয়ের চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছি। কয়দিন পরপর তাকে রক্ত দিতে হয়ে। এরমধ্যে তাকে ২০ বার রক্ত দেওয়া হয়েছে। আমি নিজে অনেকবার মেয়েকে রক্ত দিয়েছি। ময়মনসিংহ হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করিয়েছি। কিন্তু কোনো উন্নতি হচ্ছে না। মেয়ের চিকিৎসার টাকার জোগাড় করতে গিয়ে আমি নিজের রক্তও বিক্রি করেছি। কিন্তু এখন আর পারছি না।

তিনি আরও বলেন, মেয়ে বড় হচ্ছে এখন তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তাও বাড়ছে। চিকিৎসক বলছেন, ‘ইত্তায়সিস’ নামে এক বিরল চর্মরোগে আক্রান্ত আশামনি। দেশের বাইরে (ভারত) নিয়ে চিকিৎসা করাতে পারলে হয়তো সে ভালো হবে। এতে অনেক টাকার প্রয়োজন। কিন্তু আমি তো গরিব, অসহায়। মেয়ের এমন দুঃসহ যন্ত্রণা লাঘবে কিছুই করতে পারছি না। সমাজের বিত্তবানরা যদি আমার মেয়ের পাশে দাঁড়ায় তাহলে আমি আমার মেয়েকে সুস্থ করে তুলতে পারবো।

অসুস্থ আশামনি বলে, সারা শরীর চুলকায়। এতে ফুসকা পড়ে যায়। ফলে অনেক যন্ত্রণা করে। আমি এই অসহ্য যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চাই। সবাই আমাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সহযোগিতা করুন।

মধুনাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. শহীদ ফকির জাগো নিউজকে বলেন, আশামনি আমাদের বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। সে বিরল চর্মরোগে আক্রান্ত হলেও লেখাপড়ায় খুব মনোযোগী। তার পরিবার খুবই দরিদ্র। তাই সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতায় মেয়েটির উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলে সে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতো।

পূর্বধলার আগিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সানোয়ার হোসেন চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, আশামনির বাবা-মা খুব দরিদ্র। মেয়ের এমন বিরল রোগের কারণে পরিবারটি কষ্টে আছে। মেয়েটির চিকিৎসার জন্য সমাজসেবা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সহযোগিতার চেষ্টা করবো।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাহিদ হাসান প্রিন্স বলেন, আশামনির শরীরে বিরল চর্মরোগের ব্যাপারে আমি জানি না। তবে খোঁজ নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেওয়ার চেষ্টা করবো।

সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
ইঞ্জিনিয়ার মোঃ ওয়ালি উল্লাহ
নির্বাহী সম্পাদক
নিউজ রুম :০২-৯০৩১৬৯৮
মোবাইল: 01727535354, 01758-353660
ই-মেইল: editor@sristybarta.com
© Copyright 2023 - SristyBarta.com
Develop By : BDiTZone.com
themesba-lates1749691102