চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত বিএম কনটেইনারে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ছিল বলে জানায় ফায়ার সার্ভিস। বিদেশ থেকে আমদানি করা এই রাসায়নিক অ্যাভিয়েশন শিল্প খাতে ব্যবহৃত হয়। উচ্চ চাপে এই রাসায়নিক বোতলজাত করা হয়ে থাকে।
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আনিসুর রহমান বলেন, ডিপোর কর্মকর্তাদের বরাতে আমরা জানতে পেরেছি, কনটেইনারগুলোতে হাইড্রোজেন পার অক্সাইড ছিল। তবে প্রথমে আগুন নেভাতে আসা ফায়ার সার্ভিসকর্মীদের এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের কেউ অবহিত করেনি। এমন রাসায়নিকের আগুন নেভাতে হয় ফগ সিস্টেমে। আমরা এই পদ্ধতিতে এবং ফোমের মাধ্যমে এখন আগুন নেভানোর চেষ্টা করছি।
শনিবার (৪ জুন) দিবাগত রাতে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীসহ ৩৭ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে দগ্ধসহ আহত হয়েছেন ২ শতাধিক। আগুন নেভাতে গিয়ে আহত হয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের কমপক্ষে ২১ জন কর্মী। এছাড়া এক পুলিশ কনস্টেবলের পা বিচ্ছিন্নসহ অন্তত ১৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে রোববার (৫ জুন) সকালে ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ের সময় ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন বলেন, কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে সে বিষয়ে এখন কিছুই বলা যাচ্ছে না। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে। আগামী তিন কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
তিনি বলেন, আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৫ জন কর্মী নিহত হয়েছেন, ২১ জন কর্মী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ছয় জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৫ জন চট্টগ্রাম সিএমএইচে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিসের যেসকল কর্মীরা নিহত হয়েছেন তাদের জন্য তিনি গভীর শ্রদ্ধা ও সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, এ ঘটনা আমি মর্মাহত।